রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়ায় চটেছেন ট্যানারি মালিকরা

ঢাকা: কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চটেছেন ট্যানারি মালিকরা। তারা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের চামড়া শিল্পকে বিপদে ফেলবে।

কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্তের পর আজ মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ট্যানারি মালিকরা জরুরি বৈঠকে বসেন।

এর আগে আজ সকালে কাঁচা চামড়ার উপযুক্তমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা দিতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী’ এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, কোরবানি চামড়া দিয়েই মূলত আমাদের ব্যবসা করতে হয়। কোরবানির কাঁচা চামড়া যদি রফতানি হয়, তাহলে আমাদের শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলো কি ভাবে চলবে?

তিনি বলেন, আমরা তো এখনও চামড়া সংরক্ষণ করা শুরুই করিনি।চামড়া কেনা শুরু করবো আরও ৮ থেকে ১০ দিন পর । আর মধ্যস্বত্বভোগীদের তৈরি করা সমস্যা আমাদের ওপর কেন চাপানো হচ্ছে? আমরা তো সরকারের বেঁধে দেওয়া দামেই চামড়া কিনবো।

বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের চামড়া ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়বে।

গত ৩১ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে পশুর চামড়া।মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়ার দাম দিয়েছেন ২শ’ টাকারও কম। এক লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩শ’ টাকায়। চামড়ার দাম না পাওয়ায় কোরবানি দাতাদের অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে চামড়া মাটিতেও পুঁতে দিচ্ছেন।

এদিকে, কাঁচা চামড়ার দাম কমে যাওয়ার জন্য ট্যানারি মালিকরা মধ্যস্বত্বভোগীদেরকে দায়ী করেছেন। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীদের তৈরি করা কৃত্রিম সংকটের কারণে এবার কাঁচা চামড়ার দাম কমে গেছে।

আজ মঙ্গলবারও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কিনছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। একইভাবে গতকালের মতো আজও স্যায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পাইকারদের কাছে মাত্র ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় চামড়া বিক্রি করছেন।

পোস্তা ও হাজারীবাগ এলাকাতেও পাইকার, ট্যানারি প্রতিনিধি ও আড়তদাররাও অল্প দামে কোরাবানির পশুর চামড়া কিনছেন। ঢাকার বাইরে থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যে দামে চামড়া কিনেছেন তার চেয়েও কম দামে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামেও বিক্রি করতে না পেরে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার চামড়া  ফেলে চলে গেছে রাস্তায়। তাদের অভিযোগ, আড়তদার ও পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে কেনা দামেও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপুল সংখ্যক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী চোখের জলে বাড়ি ফিরেছেন।

চট্টগ্রামের  আড়তদাররা বলছেন, রাজধানী ঢাকার ট্যানারি মালিকরা গেল বছরের পাওনা পরিশোধ না করায় তারা এবার প্রত্যাশিত চামড়া কিনতে পারছেন না।

প্রতিটি  ৩০০টাকা দরে ১০০টি চামড়া কিনে বিক্রির জন্য আতুড়ার ডিপতে এনেছেন রাউজান উপজেলার আব্দুল বারেক। তিনি আজ দুপুর ১২টা থেকে সেখানে ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন। ৩০০ টাকার চামড়া পাইকাররা দর হাকেন ৫০ থেকে ১০০ টাকা। বেলা তিনটার দিকে এক আড়তদারের কাছে গিয়ে চামড়াগুলো কেনার জন্য অনুরোধ করেন বারেক। কিন্তু কোন আড়তদার তার চামড়াগুলো ৩০০ টাকা দরে কিনতে রাজি হননি।

অবশেষে রাস্তায় চামড়াগুলো ফেলে কাঁদতে কাঁদতে বারেক গ্রামের বাড়ি চলে যান। এ অবস্থা শুধু বারেকের নয়, বিপুল সংখ্যক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী হতাশা এবং মনেব্যথা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

উল্লেখ্য, এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কাছে যখন টাকা ছিল, তখন আমরা প্রতিযোগিতা করে চামড়া কিনেছি। ফলে তখন কাঁচা চামড়ার দাম বেশি হতো। এবার আমাদের কাছে টাকা নেই। ট্যানারি মালিকরা সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রেখেছেন। টাকা না থাকলে আমরা কিনবো কিভাবে?

তিনি বলেন, মৌসুমী ব্যবসায়ী ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার অথবা যে কোনোভাবেই হোক তারা এবার অল্প টাকায় কাঁচা চামড়া কিনেছেন। এবার প্রতিযোগিতা করার মতো লোক ছিল না। এ কারণে চামড়ার দাম পড়ে গেছে। তাদের হাতে টাকা না থাকার কারণে এবছর ২৪৫ জন আড়তদারের মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন আড়তদার চামড়া কিনতে পারছেন বলেও জানান তিনি।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//আরএম


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।