রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:০০ অপরাহ্ন

চামড়ার ব্যাপক দরপতন, কেনার লোক নেই

ঢাকা: এবছর কোরবানি পশুর চামড়ার ব্যাপক দরপতন ঘটেছে।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মৌসুমী ব্যবসায়ী থেকে পাইকারি বাজার সবক্ষেত্রে এই দরপতনের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

এখন কোরবানি পশুর চামড়া কেনার লোক নেই।  অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন। লক্ষাধিক টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র দুইশ থেকে পাঁচশ টাকায়। ছোট গরুর চামড়ার কেউ দামই করছেন না। আর ছাগলের চামড়া কেনা হচ্ছে একশ টাকারও কমে।

আজ সোমবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব চিত্র ও  তথ্য পাওয়া গেছে।

চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অনেকেই সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করলেও বাজার খারাপের শঙ্কায় দুপুরের পর থেকে কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা বলছেন, গত কয়েকবছরের মধ্যে এবারই চামড়ার দাম সবচেয়ে কম।

পাইকারী বাজার লালবাগের পোস্তায় দেখা যায়, গত বছর থেকে এবছর প্রতিটি চামড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এবছর প্রতি পিস ছোট চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, যা গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, গতবছর যা বিক্রি হয়েছিল এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা এবং বড় চামড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা।

পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, এখন চামড়া ভালো আছে, রাতে এ চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যাবে। তখন আরো দাম কমে যাবে। এমন আশঙ্কার পাশাপাশি সঠিক নিয়মে চামড়া সংরক্ষণ না করার কারণে এবছরও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে বলে জানান তারা।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদরে সংগঠন বাংলাদশে হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাজী দেলোয়ার হোসনে বলেন, ‘এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সব চামড়া কেনা সম্ভব হবে না। এছাড়া চামড়া কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকাও ব্যবসায়ীদের কাছে নেই। এ কারণে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের লবণ দিয়ে চামড়া রাখার মতো ক্যাপাসিটি থাকলেই তাদের চামড়া কেনার পরামর্শ দিচ্ছি।’

চামড়ার পুরো বাজার নির্ভর করছে রফতানির ওপর এমনই জানিয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, আগের চেয়ে রফতানি কমে গেছে। ফলে চামড়া সংগ্রহও আমাদের কমাতে হয়েছে। এছাড়া এবার ট্যানারি ব্যবসায়ীদের অনেকেই আগের বছরের চামড়া বিক্রি করে শেষ করতে পারেনি। আর অর্থের সংকট তো আছেই।’

সকালে গরু কোরবানি দিলেও অনেকেই বেলা তিনটা পর্যন্ত চামড়া বিক্রি করতে পারেনি।রাজধানীর গ্রীন রোড, কলাবাগান, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি, পরীবাগ, সেগুনবাগিচা এলাকায় দেখা গেছে, তারা বাসার সামনে চামড়া ফেলে রেখেছেন। পাশাপাশি এলাকাগুলোতে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ভিড় বিগত বছরগুলোর মতো নেই। এর বিপরীতে বিনামূল্যে চামড়া সংগ্রহ করতে বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানার লোকজনকে বেশি দেখা গেছে। অনেকেই আশানুরূপ দামে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মসজিদ, মাদ্রাসা বা এতিমখানায় চামড়া দান করে দিচ্ছেন।

ধানমন্ডি ৩/এ এর বাসিন্দা মাহমুদুল ইসলাম জানান, আগে বেলা ১০টা সাড়ে ১০টার মধ্যে চামড়া কেনার লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যেত। আর এখন দুপুর একটা বাজে। এখন পর্যন্ত দুজন ছাড়া চামড়া কিনতে কেউ আসেনি।

তিনি বলেন , প্রায় দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়ার দাম সকালে করলো মাত্র ৫শ টাকা। এরপরতো আর কেউ কিনতে আসেনি। বিক্রি করতে না পারলে কোনো এতিমখানা কিংবা মাদ্রাসায় দান করে দিবেন বলে তিনি জানান।

গত ৬ বছর ধরে ধানমন্ডি, গ্রীনরোড, কলাবাগান এলাকায় কোরবানির সময় চামড়া কিনতেন মো. ফিরোজ। এ বছর তিনি এই ব্যবসা করছেন না। কেন করছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার চামড়ার দাম ভালো যাবে না, এটি আগে থেকেই জানছি। কারণ ট্যানারি মালিকরা এবার কম দামে চামড়া কিনবে। এইসব কারণে এবার ব্যবসা করছি না।

তিনি জানান, এবার ধানমন্ডি কলাবাগান এলাকার অন্তত ২০ জন মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কিনছে না।

সরেজমিন দেখা যায়, লালবাগের পোস্তায় বিকেল ৩টার পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির চামড়া আসতে থাকে।আড়তদারদের হাঁকডাকে সরব হয়ে উঠেছে লালবাগের শায়েস্তা খান, রাজ নারায়ণ ধর রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন রোড। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু করেছেন। তবে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় এবার ৫০ শতাংশ আড়তদার কমে গেছে। কিন্তু পশু কোরবানি এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় পোস্তায় এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি কাঁচা চামড়ার বেচা-কেনা। রাতের দিকে পুরোদমে চামড়া কেনাবেচা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কোরবানির চামড়া মাত্র আসতে শুরু করেছে। তবে রাতের দিকে রাজধানীর সব স্থান থেকে চামড়া আড়তে আসবে। তিনি বলেন,  ‘বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এ বছর প্রায় এক কোটি কোরবানির পশুর চামড়া আমদানি করার টার্গেট আছে। তবে আমরা রাজধানী থেকে প্রতি বর্গফুট লবণছাড়া চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় সংগ্রহ করছি। সে হিসাবে ছোট প্রতি পিস চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বড় দুই হাজার থেকে ২৫ স্কয়ার ফুট চামড়ার দাম ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি জানান, সব মিলিয়ে এবছর চামড়াখাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। ট্যানারি মালিকরা সাড়ে তিনশ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রেখেছেন। অন্যান্য ঈদের সময় ১০ থেকে ২০ শতাংশ নগদ টাকা দিলেও এবার সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন টাকা পেয়েছেন। ব্যবসায়ীরা টাকা না পেলে চামড়া কিনবেন কিভাবে। ফলে অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে। যারা টাকা পেয়েছেন তারা চামড়া কিনছেন। তাই এবছর আমাদের ২৪৫ জন আড়তদারের মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন আড়তদার চামড়া কিনতে পারছেন।

তিনি বলেন, এখাত দিনদিন নিন্মমুখি হচ্ছে। এজন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ ট্যানারি মালিকদের জমি দ্রুত রেজিস্ট্রি করে দিতে হবে।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//আরএম


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।