শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

‘ছয়দফা আন্দোলন’ ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ বাতিলের আন্দোলনে রূপ নেয়

ডেস্ক : বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একটি অবিচ্ছেদ্য নাম। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রয়েছে নেতৃত্ব। কিন্তু সেই ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে অজানা।

আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা কর্মসূচি। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশকে জানার কর্র্মসূচি গ্রহণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তারই আলোকে চট্টগ্রামের সেন্ট স্কলাসটিকা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের একদল শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে জানার জন্য একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শর্মিলা দাশ, অপরাজিতা দাশ, তাসনুভা খানম, তাথৈ চৌধুরী, দুররিয়া হোসেইন, তৃষা পাল, অনন্যা দাশ, শিবাঙ্গী গুপ্তা, প্রান্তিকা চৌধুরী ও অপর্ণা বিশ্বাস। সেন্ট স্কলাসটিকা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রদত্ত সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর সাক্ষাৎকার ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো। আজ প্রকাশিত হলো চতুর্থ পর্ব।

আগেই বলা হয়েছে,১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত একটি যুদ্ধ হয়। যুদ্ধটি হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে এক হাজার মাইলের ব্যবধান। প্রতিরক্ষার সবকিছু পাকিস্তানে ছিলো, পূর্ব পাকিস্তানে তেমন কিছু ছিলো না। ওই সময় ১৫ দিনের যুদ্ধ হয়। পূর্ব পাকিস্তান অরক্ষিত ছিলো। বাঙালিরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। এ পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু পাক-ভারত যুদ্ধের পর ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে সম্মিলিত বিরোধীদলের বিষয় নির্বাচনী কমিটির বৈঠকে এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এক জনসভায় ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ছয় দফায় স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়। পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে একটি ফেডারেল কাঠামোর রাষ্ট্র হবে। বৈদেশিক নীতি ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্রের হাতে থাকবে, বাকিগুলো থাকবে ফেডারেশনের ইউনিটগুলির হাতে।

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা ঘোষণার আরো কারণ ছিলো। পাকিস্তান হওয়ার পর থেকে বাঙালিরা নানাভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক চাকরি, শিক্ষা, উন্নয়নসহ সর্বক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানকে (বাংলাদেশ) অবহেলা করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীতে উচ্চপদে কোন বাঙালি কর্মকর্তা ছিলেন না। সব বড় পদে ছিলো পাঞ্জাবি অফিসার। একটি দেশের পশ্চিম অংশে এতো সুযোগ-সুবিধা, অন্যদিকে পূর্ব অংশ কেনো বঞ্চিত হবে-এ বঞ্চনা আর জ্বালা-যন্ত্রণা বঙ্গবন্ধু সহ্য করতে পারেননি। শুধুমাত্র বাঙালি হওয়ার অপরাধে আমার জাতির উপর পশ্চিম পাকিস্তানিরা নির্মম অত্যাচার করছে-বঙ্গবন্ধু এ উপলব্ধি থেকে ছয় দফা দেন। কারণ ছয় দফা বাস্তবায়ন হলে পূর্ব পাকিস্তান আলাদা স্বায়ত্তশাসিত একটি প্রদেশ হবে, আলাদা বাজেট ও উন্নয়ন হবে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিরা এতে বিচ্ছিন্নতাবাদের গন্ধ খুঁজে পেল। ছয় দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধুকে সকাল-সন্ধ্যা গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে সকালে গ্রেফতার করে সন্ধ্যায় মুক্তি, সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে পরের দিন মুক্তি-এভাবে গ্রেফতার করে এক জেল থেকে আরেক জেলে পাঠিয়ে চরম হয়রানি করা হয়।

বাঙালিদের মধ্যে ছয়দফা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাঙালি জাতি ছয়দফাকে তাদের ‘মুক্তির সনদ’ হিসেবে গ্রহণ করে। যে কারণে মানুষ ছয়দফার ভিত্তিতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলে। এ আন্দোলন যখন তীব্র হতে তীব্রতর হচ্ছিলো তখন বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ নামে একটি মামলা দেয় পাকিস্তান সরকার। প্রথমে এ মামলার নাম ছিলো-‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের উৎসাহে মিডিয়ায় মামলাটি ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। আগরতলা ভারতের একটি রাজ্যের রাজধানী। মামলায় এই নাম জুড়ে দিয়ে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে ভারতের দালাল প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিলো। শেখ মুজিব ভারতের সাহায্য নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাচ্ছে এটাই মানুষকে বোঝাতে চেয়েছিলো পাকিস্তান সরকার। কিন্তু মানুষ বুঝতে পারে যে, পশ্চিম পাকিস্তানিরা ৬ দফা না মানার জন্য এ মামলা দায়ের করেছে। তারা বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কথিত অভিযোগে ফাঁসি দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। তখন বাঙালিরা ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ বাতিলের দাবি যুক্ত করে তীব্র আন্দোলন শুরু করে।

‘ছয়দফা আন্দোলন’ একপর্যায়ে‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ বাতিলের আন্দোলনে রূপ লাভ করে। এ আন্দোলন ‘৬৯ এর প্রথমদিকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। বাঙালি জাতির গণঅভ্যুত্থানের মুখে পশ্চিম পাকিস্তানের ‘লৌহমানব’ খ্যাত আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামিদের মুক্তি দেওয়া হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাগার থেকে মুক্তির পর ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি ছিলেন ৩৫ জন। বঙ্গবন্ধুর সাথে চট্টগ্রাম থেকে তিন রাজনীতিবিদকে এ মামলার আসামি করা হয়। তাঁরা হলেন ভূপতি ভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী (চট্টগ্রামের পটিয়া থানার হাবিলাসদ্বীপ গ্রামের বাসিন্দা), বিধান কৃষ্ণ সেন (চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার সারোয়াতলী গ্রাম নিবাসী) এবং ডা. ছৈয়দুর রহমান চৌধুরী (চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার নিবাসী)।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//এমএমআর


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।