বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

ফাহাদের আত্মদানে অবসান হোক সকল অনিয়ম

নাকাঙ্ক্ষিত বা অপমৃত্যু কখনোই কারো কাছে কাম্য ছিল না, এখনো নয়। বিশেষ করে সুস্থ ও সুন্দর মন-মানসিকতা সম্পন্ন এবং বিবেকবান কোন ব্যক্তিই এই ধরনের মৃত্যু কখনো সমর্থন করে না।

তারপরও দেশে দেশে, সমাজে নানা স্তরে দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিদিনই অসংখ্য অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিল যেন কোন অবস্থাতেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তবুও দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু কিছু মৃত্যু অনেক সময় একটি জাতি এবং সমাজকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিয়ে যায়। দীর্ঘদিনের ঘুনে ধরা সমাজ বদলের একটা মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

কোন রাজনৈতিক স্লোগান অথবা বছর বছর ধরে চলতে থাকা ব্যাপক আন্দোলন কর্মসূচি যে অচলায়তন ভাঙতে পারেনি, ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে- একটি মাত্র অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু যেন তা ঘুচিয়ে দিয়েছে। সমগ্র বিশ্বে এমন অনেক নজির রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষপটে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ তেমনি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। মাতৃভাষা বাংলার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী মহান শহীদ রফিক, জব্বার, সফিক, সালাম, বরকতের বুকের তাজা রক্তে এই জাতি পরাধীনতার শিকল ভাঙার বীজ বুনেছিল সেদিন।

তাঁদের সেদিনের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। সৃষ্টি হয়েছিল দুনিয়া কাঁপানো অমর একুশে। রফিক-জব্বারদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই এসেছিল প্রিয় স্বাধীনতা।জীবনদানের এই ধরনের অনেক ইতিহাস রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে সবচে আলোচিত ও দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে “ফাহাদ হত্যাকাণ্ড”। বুকে প্রকৌশলী হবার স্বপ্ন নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় এসেছিল মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ। বুয়েটের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখার সুযোগ যারা পেয়েছে, তারা সবাই মেধাবী ছাত্র। তার হত্যাকাণ্ডে জড়িতরাও সবাই নিঃসন্দেহে মেধাবী।

কিন্ত, কোথায় আজ সেই দেশসেরা মেধাধীরা ?  কারা প্রকোষ্টে বিচারিক শাস্তির অপেক্ষায় দিন কাটছে তাদের। আর, প্রাণহীন হয়ে আবরার ফাহাদ ঘুমিয়ে আছে কবরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা পোস্ট দেয়ার কারণে বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতা ফাহাদকে পিটিয়ে নির্মভাবে হত্যা করেছে। ‍

প্রকৌশল বিশ্বদ্যিালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া তরুণরা কী করে এতোটা নির্মম হয়- সেই প্রশ্নও আজ অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে। বিষয়টা কি কেবলই আদর্শিক, নাকি স্রেফ মাস্তানি ?  অথচ নির্মম এই ঘটনার শিকার এবং হত্যাকারী সবাই পরস্পরের সহপাঠী। সভ্যতা যেন আরো একবার কলঙ্কিত হলো।

এমনটা ঘটনাতো কারো কাম্য ছিল না ! না পরিবারের, না রাষ্ট্রের, না সমাজের। তবু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের নানাস্তরে প্রায় ঘটে যাচ্ছে এমনই অপ্রত্যাশিত ও বেদনাদায়ক ঘটনাগুলো। প্রশাসন যন্ত্রের নির্লিপ্ততা, রাজনৈতিক দলের মদদ, উপযুক্ত বিচার না হওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আতঙ্কের অপর নাম র‌্যাগিং। অভিযোগ আছে, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সিনিয়র ছাত্ররা তাদের জুনিয়র সহপাঠীদের মারধরসহ প্রায়শ নানাভাবে নির্যাতন করে থাকে। এই অভিযোগ একদিনের সৃষ্টি নয়, দীর্ঘদিনের। উপযুক্ত প্রতিকার অথবা বিচার না হবার কারণে  সম্প্রতি এই বাজে চর্চাগুলো একটা ভয়ংকর সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটসহ দেশের শিক্ষাঙ্গন ফুঁসে উঠেছে। এটা কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের জন্যই নয়, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ক্যাম্পাসে র‌্যাগিংসহ নানা অনিয়ম ও নির্যাতনের বিচারহীনতার বিরুদ্ধে তাদের এই ক্ষোভ। ফাহাদের মৃত্যু তাদের সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পরে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উথ্থাপিত দাবিগুলো যেন সেই কথায় বলছে।

রাজনীতির চোরাগলিতে এই আন্দোলনকে পরিচালিত করার অপচেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। ফাহাদ নিহত হয়েছে, তার হত্যায় জড়িত ১৯জন মেধাবী গ্রেফতার হয়ে আসামির কাঠগড়ায়। ইতোমধ্যে বুয়েট কর্তৃপক্ষ তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। স্থায়ীভাবে বহিষ্কারসহ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে আরো কঠিন শাস্তি।

অথচ প্রত্যাশাতো এমন ছিল না। আবরার ফাহাদসহ এই বিশজন মেধাবী তরুণ তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করে নতুন সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে অনেক বিরাট ভূমিকা রাখতে পারতো।পাশাপাশি তাদের পরিবারগুলোও স্বচ্ছলতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের মুখ দেখবে- এমনই তো হবার ছিল।

কেন প্রত্যাশা পুরণ হয়নি, এর উত্তর খোঁজা জরুরি এখন।

 সম্পাদক, স্বদেশ24

 

 

 

 

 

 

 

 

 


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।