রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ১০:০২ অপরাহ্ন

ভয়ংকর কিশোর গ্যাং

কিশোর গ্যাং। এ সময়ের সবেচেয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতংকের নাম। এমন কোন অপরাধ নেই এরা করে না।খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, ছিনতাই সবই যেন এদের কাছে মামুলি বিষয়।এদের বয়স ১৩ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।এক একটি গ্রুপে এরা ১০ থেকে ২০ জন থাকে।গ্রুপের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চ্যাট গ্রুপ তৈরি করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে।

বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছুটির সময়ও এদের উৎপাতে অস্থির হয়ে ওঠেন সেখানে আগত অভিভাবকরা। পাশাপাশি রাস্তাঘাট এমনকি নিরিবিলি পরিবেশকেও তারা মুহূর্তে অশান্ত করে তোলে। অতীতে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েও ছুরিকাঘাত করার নজির রয়েছে। অভিযোগ আছে, এলাকার বড় ভাইদের মদদে এলাকাভিত্তিক গড়ে উঠেছে এই কিশোর গ্রুপ।এমনকি এই বড় ভাইরা এলাকার নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে কিশোরদের হাতে ভয়ংকর আগ্নেয়াস্ত্রও তুলে দিচ্ছে।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর গুলশানে খুন হন শাকিল (১৮) নামে এক কিশোর। নিকেতন আবাসিক এলাকার একটি বিজ্ঞাপনী কর্মচারী ছিলেন শাকিল। তাকে গলা কেটে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়। খুনি আরাফাত গ্রেপ্তার হলে রাজধানীতে প্রথম কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য সামনে আসে। মাত্র ১৭ বছরের কিশোর আরাফাতের এমন ভয়ঙ্কর রূপ দেখে প্রশাসনের কর্মকর্তারাও আঁতকে ওঠেন। তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে কিশোর অপরাধীদের নানান তথ্য।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, পেশাদার খুনি হিসেবেও কিশোরদের ব্যবহার বাড়ছে। যে কারণে কিশোর মুখগুলো ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে তারা। এরা নিজেদের কিশোর গ্যাং বলেই ভাবতে চায়। কিশোর এসব অপরাধীর হাতে অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীতে বিশেষ করে উত্তরায় একাধিক খুনের ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি বরগুনার কিশোর গ্যাং লিডার নয়ন বন্ড, টঙ্গিতে নবম শ্রেণির ছাত্র শুভ হত্যার মধ্যদিয়ে কিশোর গ্যাং ফের আলোচনায় আসে।সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে চট্টগ্রামের সাগরিকা এলাকায় খুন হন মোবারক হোসেন(২০) নামে এক তরূণ।ছিনতাই করা মোবাইল নিয়ে ঝগড়ার সূত্রে নিজ গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে পিটিয়ে মারে।

আশার খবর, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের নিয়ন্ত্রণে শক্ত পদক্ষেপ নিয়ে মাঠে নামছে র‌্যাব। এর জন্য কিশোর গ্যাংদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে র‌্যাবের মাঠে নামার বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক। কেননা, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের  আইন ও গণমাধ্যম শাখার নবনিযুক্ত পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের  বলেছেন, কিশোর গ্যাং যখন মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তখনই সেখানে অস্ত্র চলে আসে। এর সঙ্গে হত্যা এবং ধর্ষণের মতো বিবেকহীন কাজও ঘটে। ফলে এই কিশোর গ্যাং আমাদের সমাজ-রাষ্ট্রের জন্য কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা বলাই বাহুল্য। তিনি এ জন্য অভিভাবকদের সক্রিয় এবং সচেতন হয়ে সন্তানদের খোঁজ-খবর রাখতে যে আহ্বান জানিয়েছেন, সে বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ববহ বলেই আমরা মনে করি।

এখন পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের প্রায় ৪০ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিয়ে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া যেসব কিশোর গ্যাং ইতোমধ্যে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

আমরা মনের করি, র‌্যাবের এ উদ্যোগের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সতর্ক হতে হবে।সমাজ বিশ্লেষকরা এমন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য  প্রশাসনের কঠোরতার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বের কথাও বলছেন।তাঁদের মতে, পরিবার অন্ন শিক্ষা এবং অন্যান্য বিষয় যোগান দিতে না পারায় নিন্মবিত্তের সন্তানরা ছেলেবেলা থেকেই পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যায়।তেমনি মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা অতি স্বচ্ছলতার সুযোগে ভোগে নিমজ্জিত হয়। অর্থাৎ এই কিশোরদের সঙ্গে পরিবারের একপ্রকার বিচ্ছিন্নতা আছে। পরিবারগুলো বৈষয়িক উন্নতির জন্য এতটাই ব্যস্ত যে, সন্তানদের দেখভাল ও নৈতিক উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।শুধু পুলিশি ব্যবস্থায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।কোন শিক্ষার্থী তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না গেলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিভাবককে অবহিত করতে হবে। অভিভাবকের উচিত ছেলে কোথায় কোথায় যায়, কার সাথে মিশে তার খোঁজ নেয়া।প্রশাসনের কঠোরতার পাশাপাশি অভিভাবকরাও নিজ নিজ সন্তানের প্রতি নজরদারি বাড়ালে এ ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণ মিলবে।

সম্পাদক, স্বদেশ24//আরএম

 


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।