সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন

কিসের ছাত্রলীগ, অপরাধী অপরাধীই’ : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা : বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা অপরাধ করেছে তারা শাস্তি পাবে। কারণ, অপরাধী অপরাধীই, এখানে কে ছাত্রলীগ কে আওয়ামী লীগ এসব বিবেচনা আমি করি না।

শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যা–ই হোক, নিশ্চিত করা হবে সর্বোচ্চ শাস্তি।

বুধবার (০৯ অক্টোবর) গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আবরার হত্যা প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৪ তম সাধারণ অধিবেশেন অংশগ্রহণ ও ভারত সফরের অভিজ্ঞতা দেশবাসীকে জানাতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটের ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি ছাত্রলীগকে বলেছি যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। পুলিশকে বলেছি গ্রেফতার করতে। এখানে কোনো ছাড় নেই। কেউ যদি কোন অপরাধ করে সে কোন দল আমি দেখি না। কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল সেগুলা আমরা বিচার করি না।

তিনি বলেন, ‘একটা বাচ্চা ছেলে, ২১ বছর বয়স। তাকে হত্যা করা হলো। মারা হলো পিটিয়ে পিটিয়ে। কী অমানবিক। পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা দেখেছি। সব ইনজুরি ভেতরে।’

তিনি বলেন, ‘একটা কথা আমার মাথায় এলো। ২০০১ সালে আমাদের নেতাকর্মীদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মারা হতো এমনভাবে যাতে বাইরে থেকে বোঝা যেত না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত কত হত্যা হয়েছে। ছাত্রদল বুয়েটে টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে সনিকে হত্যা করেছে। ওই বুয়েটে আমাদের কত নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমরা কারও কাছে বিচার পেয়েছি ? ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমি চেষ্টা করেছি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে।’

আবরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণ পরিবারের ছেলে, এত ব্রিলিয়ান্ট একটা ছেলে। তার মায়ের কষ্ট আমি বুঝি। বাবার কষ্ট বুঝি। কারণ, আমিও হত্যার বিচার চেয়ে পাইনি। মা–বাবা হত্যার পর ৩৮ বছর আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে ১৮টি কোম্পানি উৎপাদন করছে এলপিজি। ত্রিপুরায় যাবে এলপিজি। ২০০১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্যাস বিক্রির অনুরোধ করেছিলেন। ভারত সেই গ্যাস কিনবে। কিন্তু রাজি হইনি বলে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ওই সময়ে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসেছিল। এখন যারা গ্যাস বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে তা হতে পারে না।

ফেনী নদীর পানি দেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ত্রিপুরার সাবরুমে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হয়। এর প্রভাব আমাদের দেশেও পড়ে। চুক্তি অনুযায়ী মাত্র ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি নেবে।’ কেউ যদি পানি পান করতে চায়, তা যদি না দিই তা কেমন দেখায় ?

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে বলেছিলেন, ফারাক্কা চুক্তির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। যারা গঙ্গার মতো পানির কথা ভুলে যায়, তারা আবার ফেনী নদীর পানি নিয়ে কথা বলে।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//জেসি/এমএমআর

 


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।