সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

আত্মগোপনে অপরাধী চক্র, স্বস্তি বায়েজিদের একাংশে

চট্টগ্রাম : নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীর চন্দ্রনগর, শহীদনগর, চৌধুরী নগর, ডেবার পাড়সহ আরও কয়েকটি এলাকার মানুষ স্বস্তিতে আছেন। কারণ, ঢাকায় ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরুর পর স্থানীয় একটি অপরাধী চক্র আত্মগোপনে চলে গেছে।

পুলিশ জানাচ্ছে, বায়েজিদের একাংশে সংঘবদ্ধ এ অপরাধ চক্রটি যুবলীগ পরিচয় দিয়ে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করতো। এলাকায় পাহাড় কাটা, মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর পরিচালনা এবং খাস জমি দখল করে বাণিজ্য করতো তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন যুবলীগ পরিচয়ধারী বাহার উদ্দিন বাহার, সামসুদ্দিন বাদল এবং পুলিশের কথিত সোর্স আনোয়ার। তাদের সহযোগীরা হলেন-মিঠু, আলম ওরফে বোম আলম, লিটন, শাহজাহান, মঈনুদ্দিন, বাবলু।

থানা সূত্র জানায়, বাহার, সামসুল ও আনোয়ারের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামিসহ নগরের বিভিন্ন থানায় মারামারি, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, সরকারি জমিদখলসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খোন্দকার বলেন, কিছুদিন আগেও বাহার উদ্দিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারামারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে ।

ওসি বলেন, ‘ঢাকায় ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরুর পর এলাকায় অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছে। বাহার, সামসুল ও আনোয়ারের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা গা ঢাকা দেওয়ায় এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে।’

জানা গেছে, ২০০৩ সালে অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় বন্দুকযুদ্ধে যুবদল সন্ত্রাসী পেটকাটা বাবর নিহত হওয়ার পর বায়েজিদের একাংশ নিয়ন্ত্রণে নেয় এ অপরাধী চক্রটি। বাহার ছিল পেটকাটা বাবরের সহযোগী। গত বছর ২৩ মে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামি থানার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আবদুর শুক্কুর নিহত হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যায় বাহার, সামসুদ্দিন ও আনোয়ার। কয়েকমাস পর আবার এলাকায় ফিরে এসে জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম শুরু করে।

সম্প্রতি ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হলে আবারও আত্মগোপনে চলে যায় এ অপরাধী চক্রের অধিকাংশ সদস্য। স্থানীয় সূত্র বলছে, একসময় বাহার, সামসুদ্দিন ও পুলিশের কথিত সোর্স যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ২০০৮ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে খোলস পাল্টে তারা বনে যান ‘যুবলীগ’।

পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বায়েজিদে যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মিরাজ উদ্দিন (২৭) নামে এক পথচারী নিহত হন। চন্দ্রনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মিরাজ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি পুলিশের এ কথিত সোর্স আনোয়ার।

স্থানীয় সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক মাঠ এলাকায় বড় একটি জুয়ার আসর চালান সোর্স আনোয়ার। নিজেকে পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে কিছুদিন আগে নাগিনী পাহাড় চৌধুরী নগরের পাহাড় কেটে চার একর জায়গা দখল করে নেয় বাহার, সামসুদ্দিন ও আনোয়ার।

পুলিশ জানায়, পাহাড় কাটার দায়ে বাহার, আনোয়ারসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

চন্দ্রনগর এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন,‘ এলাকায় কেউ ভবন নির্মাণ করতে গেলে বাহার গ্রুপকে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে বাহিনীর লোকজন দিয়ে রাতের আঁধারে নির্মাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় ।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে গতকাল বিকালে একাধিবার কল করলেও তিনজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//এমআর/আরএম


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।