সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

মেহেদী হত্যা : পিবিআই’র তদন্ত বাদী মানলেও মানেনি রাষ্ট্রপক্ষ

চট্টগ্রাম : চার বছর ধরে চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল হত্যা মামলার মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) ও পিবিআই’র তদন্তকে ‘ক্রটিপূর্ণ’ দাবি করে আসছিলেন বাদী মেহেদীর স্ত্রী মোবাশ্বেরা মিশু।

তার নারাজি আবেদন আমলে নিয়ে ডিবির তদন্তে ক্রটি থাকায় মামলাটি অধিকতর তদন্তেও পাঠান আদালত। তড়িগড়ি করে মাত্র সাড়ে তিন মাসে অধিকতর তদন্ত শেষ করে পিবিআই।

বাদী প্রথমে নারাজি দিলেও পরে এই চার্জশিট আমলে নিতে আদালতে আবেদন করেন। কিন্তু পিবিআই’র চার্জশিট আমলে না নিয়ে অধিকতর তদন্ত চেয়ে নারাজি দেন চট্টগ্রাম মহানগর পিপি। সবপক্ষের শুনানি শেষে আগামীকাল ৯ অক্টোবর মামলার আদেশের দিন ধার্য্ করেছেন আদালত।

এ প্রসঙ্গে মেহেদী হত্যা মামলার বাদী ও মেহেদীর স্ত্রী মোবাশ্বেরা মিশু বলেন, ‘মেহেদী খুন হওয়ার পর ২২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলাম। মেহেদীর বন্ধু মহিউদ্দিন ও দিদার এ ২২ জনের নাম ঠিক করে দিয়ে আমাকে মামলা করতে বাধ্য করেন। ৪ বছর পর এখন জানতে পারলাম যাদের মামলায় আমি আসামি করেছিলাম তারা কেউ এ খুনে জড়িত নয়। তাই প্রথমে ডিবি ও পিবিআই’র তদন্তকে ক্রটিপূর্ণ বলে আদালতে নারাজি দিলেও এখন ওই তদন্ত আমি বাদী হিসেবে মেনে নিচ্ছি। তাই আর কোন তদন্ত চাইছি না।’

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাদীর নারাজি আবেদনের উপর শুনানি শেষে ডিবির তদন্ত আদালত আমলে না নিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠান। কিন্তু মাত্র তিন-চার মাসের মধ্যে এরকম একটি চাঞ্চল্যকর মামলার অধিকতর তদন্ত শেষ করে ডিবির দেওয়া চার্জশিটের মতোই হুবহু চার্জশিট ও একই আসামি রাখায় মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠাতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নারাজি দেওয়া হয়েছে। মামলাটি নিয়ে বাদীর এখনকার আচার-আচরণ রাষ্ট্রপক্ষের কাছে সন্তোষজনক মনে হচ্ছে না।

২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ত্রাস বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিংয়ের তালিকা প্রণয়ন শেষ করে নগরীর শেরশাহ আওয়ামী লীগ অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় মেহেদীর স্ত্রী মোবশ্বেরা মিশু সন্ত্রাসী গোলাম রসুল সাদ্দামকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের বিরুদ্ধে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন।

প্রথমে মামলাটি থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তার তদন্তভার দেওয়া হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে। তদন্তে নেমে ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে মামলার প্রধান আসামি সাদ্দামকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ঝলক রায় এর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে কুদ্দুুসের নির্দেশে মেহেদীকে গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করে সাদ্দাম।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আসামি সাদ্দাম বলেন, ‘আমি কুদ্দুস ভাইয়ের গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। শেরশাহ এলাকার আধিপত্য নিয়ে কুদ্দুস ভাই ও মেহেদীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।কুদ্দুস ভাই মেহেদীকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। কুদ্দুস ভাই মেহেদীকে মেরে ফেলতে পরিকল্পনা করেন। সেই দিন মেহেদীকে আমি গুলি না করলে কুদ্দুস ভাই আমাকে মেরে ফেলতেন। গুলি করার সময় আমার সাথে কুদ্দুস ভাইসহ অনেকেই ছিলেন। কুদ্দুস ভাইয়ের দেয়া পিস্তল দিয়েই মেহেদী ভাইকে গুলি করেছিলাম আমি।’

তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ ডিবির ইন্সপেক্টর আবদুর রহিম এজাহারভুক্ত ২২ আসামির মধ্যে মাত্র ৯ জনকে আসামি করে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট জমা দেন তিনি। চার্জশিটভুক্ত নয় আসামি হল- গোলাম রসুল সাদ্দাম, আবদুল কুদ্দুস বাপ্পী, রুবেল, মহিউদ্দিন সবুজ, আবদুল্লাহ আল সজীব, মুমিনুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান মাসুদ, তানভীর ও আবু তাহের।

২২ আসামির মধ্যে মাত্র ৯ জনকে অভিযুক্ত করায় চরম ক্ষুব্ধ হন বাদী মোবাশ্বেরা মিশু। ১৩ আসামিকে বাদ দেওয়ায় ডিবির তদন্ত ক্রটিপূর্ণ দাবি করে আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরান খান এর আদালত বাদীর নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মেহেদী হত্যা মামলা অধিকতর তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

মাত্র সাড়ে তিন মাস অধিকতর তদন্ত করেন পিবিআই। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ডিবির দেওয়া সেই ৯ আসামিকে ফের অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে পিবিআই। এতেও ক্ষুব্ধ হন বাদী মোবাশ্বেরা মিশু। আদালতে নারাজি দাখিল করেন। এরপর নতুন নতুন তারিখ পড়লেও শুনানি পেছায় কয়েক দফায়। সর্বশেষ চলতি বছরের গত ১ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী মোবাশ্বেরা পিবিআই’র দেওয়া চার্জশিট আমলে নেওয়ার জন্য হঠাৎ আবেদন করে বসেন আদালতে। আগের দেওয়া নারাজি আবেদনও প্রত্যাহার করে নেন। নতুন মোড় নেয় মামলায়। বাদীর রহস্যময় আচরণে নড়েচড়ে বসে রাষ্ট্রপক্ষ। চট্টগ্রাম মহানগর পিপি পিবিআই’র তদন্ত ক্রটিপূর্ণ দাবি করে আদালতে নারাজি দাখিল করেন।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//একে/এমএমআর

 


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।