মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন

এক মামলার ফাঁদে ১৫০০ ভূমি মালিক!

চট্টগ্রাম: একটি মাত্র মামলার ফাঁদে আটকা পড়েছে নগরের প্রায় দেড় হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক। একটি চক্রের এই মামলার কারণে চার-পাঁচ বছর ধরে তাদের ক্ষতিপূরণের ৭৫২ কোটি টাকা পরিশোধ করতে পারছে না চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাপ-দাদার জমি হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য ঘুরছেন আদালত থেকে আদালতে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি হকুম দখল কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়ছার জানান, ২০১৫ সালে নগরের পতেঙ্গা ও হালিশহর এলাকার তিন মৌজায় প্রায় দেড় হাজার একর জমির মালিকানা দাবি করে এম ইউ এম আবুল হোসেন গং নামে কিছু লোক চট্টগ্রামের তৃতীয় যুগ্ম জেলা  জজ আদালতে অপর মামলা (৭৫৪/১৫) দায়ের করেন। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায়  জমির মালিকদের টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

এ কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ৬ মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতকে নির্দেশ প্রদান করেন। আজও তা নিষ্পত্তি হয়নি। পাঁচটি মেগা প্রকল্পের জন্য নগরের পতেঙ্গা, হালিশহর ও আনোয়ারায় অধিগ্রহণ করা হয়েছে প্রায় ৩০০ একর জমি। এসব জমির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমির মালিকদের  ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা গেছে ৪০১ কোটি টাকা। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বাকি ৭৫২ কোটি বিলি করা সম্ভব হচ্ছে না।

‘ভূমি অধিগ্রহণ ম্যানূয়েল ১৯৯৭ এর অনুচ্ছেদ ৫০ অনুয়ায়ী অধিগ্রহণকৃত জমি নিয়ে কেউ আদালতে মামলা করলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে না’ বলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল এ) আমিরুল কায়ছার।

৭৫৪/১৫ নম্বর অপর মামলার আরজিতে বলা হয়. ১৮৮৫ সালের তৎকালীন সরকার থেকে বন্দোবস্তি মামলা মূলে আলোচ্য তিন মৌজায় ১৭৮৫ বিঘা জমির মালিক সত্ত্ববান হন দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের বাসিন্দা আবদুল আলী মালুম। ওয়ারিশানসূত্রে ওই জায়গার মালিক সত্ত্ববান হন এম ইউ এম আবুল হোসেন গং।

সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো হলো-বে টার্মিনাল, নৌবাহিনীর উল্কা ঘাট প্রকল্প, এলএনজি পাইপ লাইন (জিটিসিএল প্রকল্প), কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প এবং সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প। পৃথক পৃথক সাতটি জমি অধিগ্রহণ (এল এ) মামলা মূলে এ পাঁচটি প্রকল্পের জন্য মোট ২৯৩ দশমিক ৫২৯৯ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। উল্কা নৌবাহিনী ও এলএনজি প্রকল্প ছাড়া বাকি চারটি প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মোট মালিকের সংখ্যা এক হাজার ৪৪৯জন।

এর মধ্যে এলএ কেইস ১৯ (২০১৭-২০১৮) মূলে বে-টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ হয়েছে ৬৬ দশমিক ৮৫৩১ একর। এ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ২৬০জন। জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। এ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের মধ্যে এখনও বন্টন করা যায়নি।

এলএ কেইস ১৯/২০১৬-২০১৭ মূলে বে-টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য (পতেঙ্গা অংশ) জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ৩৩ দশমিক ৪৮৫২ একর। এ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ২২০জন। জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০৫ কোটি ৩১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। এরমধ্যে জমির মালিকদের বন্টন করা হয়েছে ১২৭ কোটি ৫১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ৭৭ কোটি ৮০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বিলি করা যায়নি।

এলএ কেইস ৩০/ ২০১৬-২০১৭ মূলে কর্ণফুলী টানেল (আনোয়ারা অংশ) প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ৯৩ দশমিক ০২৮০ একর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ৩৫০ জন। জমির ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১৪২ কোটি ৯৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমির মালিকদের বন্টন করা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ১০৯ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বন্টন করা যায়নি।

এল এ কেইস ৭/১৩-১৪ মূলে সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ২৬ দশমিক ২৮ একর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ১৫৪জন। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১৭৬ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এ যাবত টাকা বন্টন করা হয়েছে ১০৮ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বিলি করা যায়নি ৬৭ কোটি ৯২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

একই প্রকল্পের জন্য এলএ কেইস ৮/১৩-১৪ মূলে জমি অধিগ্রহণ হয়েছে ২৩ দশমিক ৪৭ একর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ২৫৭জন। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১৩৪ কোটি ৭৯ লাখ ৮ হাজার টাকা। বিলি হয়েছে ৬৫ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। বিলি করা যায়নি ৬৯ কোটি ৪৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

একই প্রকল্পে এলএ কেইস ৯/১৫-১৬ মূলে জমি অধিগ্রহণ করা হয় ৯ দশমিক ৮১১০ একর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ২০৮জন। ক্ষতিপূণের পরিমাণ ১৩৪ কোটি ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। বিলি হয়েছে ৬৬ কোটি ২০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। বিলি হয়নি ৬৮ কোটি  ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।  এল এ কেইস ১৫/২০১৭-২০১৮ মূলে এলএনজি পাইপ লাইন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ হয়েছে ২৪ দশমিক ৪৩৫১ একর।

নৌবাহিনীর উল্কা ঘাট প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ হয়েছে ১৬ দশমিক ১৬৭৫ একর। এর মধ্যে সংশোধিত কাগজপত্র দাখিল না হওয়ায় উল্কা নৌবাহিনী প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ হয়নি।  একইভাবে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় এলএনজি পাইপ লাইন প্রকল্প এলাকায়ও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ হয়নি।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//এমআর/আরএম


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।