সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

সুদীপ্ত হত্যার দুই বছর : বড় ভাইসহ আসামিরা জামিনে

চট্টগ্রাম : নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হবে আগামীকাল রোববার (৬ অক্টোবর)। দুই বছরেও ছেলে হত্যার বিচার না পাওয়া ও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা বড় ভাই দিদারুল আলম মাসুমসহ অধিকাংশ আসামির জামিনে থাকার কারণে হতাশা এবং পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেছেন মামলার বাদী।

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর সকালে সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসার সামনে খুন হন সুদীপ্ত বিশ্বাস। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন মেঘনাথ বিশ্বাস বাবুল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘পিবিআই মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে। মামলার তদন্ত প্রায় শেষপর্যায়ে। খুব শিগগির চার্জশিট দেওয়া হবে।

একই বছরের ২৩ অক্টোবর লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারী মোক্তার হোসেন গ্রেফতার হন। এরপর বিভিন্ন সময় আট আসামিকে গ্রেফতার করে সদরঘাট থানা পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতার মোক্তার হোসেন ও আরেক আসামি ফয়সাল আহমেদ পাপ্পু বড় ভাইয়ের নির্দেশে সুদীপ্তকে পিটিয়ে খুন করেছে বলে আদালতে স্বীকার করেছে। তবে বড় ভাই হিসেবে তারা কারো নাম উল্লেখ করেননি।

২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টার মাইন্ড আইনুল কাদের নিপু ও জাহেদুর রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর ঘটনায় ব্যবহার হওয়া ১০-১২টি সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে সাতটি ও তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে একটি উদ্ধার করে তারা। আরো পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে গত ১১ জুলাই মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরদিন ১২ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহানের আদালতে জবানবন্দি দেন মিজানুর রহমান। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দিদারুল আলম মাসুমের নির্দেশে সুদীপ্তকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। ঘটনার ১ বছর ৯ মাসের মাথায় প্রথমবারের মতো নির্দেশদাতা বড় ভাইয়ের নাম উঠে আসে।

জবানবন্দিতে আসামি মিজানুর রহমান বলেন, সুদীপ্ত হত্যার আগের দিন (৫ অক্টোবর) রাতে নগরের লালখান বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুমের কার্যালয়ে আসামি আইনুল কাদের নিপু, পিচ্চি হানিফ, ওয়াসিম উদ্দিন, মো. আরমানসহ ৮ থেকে ১০ জনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। মাসুম তখন নিপুকে নির্দেশনা দেন, ‘ঘটনাটা সকাল ছয় থেকে আটটার মধ্যে শেষ করবি। মোক্তারকে ভিডিও করে আনতে বলবি। আমি দেখব।’

এরপর গত ৪ আগস্ট ঢাকা থেকে দিদারুল আলম মাসুমকে গ্রেফতার করে পিবিআই। মাত্র দেড় মাসের মাথায় ১৫ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যান মাসুম। ঘটনার পর মাসুমসহ ১৫ আসামি গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে গেছেন ১২ জন। এখন কারাগারে আছেন আসামি মিজানুর রহমান, মো. রুবেল ওরফে টাংকি পাহাড়ের রুবেল ও মো. হানিফ ওরফে পিচ্চি হানিফ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মামলার বাদী মেঘনাথ বিশ্বাস। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করতেন সুদীপ্ত। এ ঘটনার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বাদী মেঘনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা বড় ভাই অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তিনি জেলে গেলেও বের হয়ে যাবেন এটা জানতাম। তার ক্ষমতাবান শেল্টারদাতা রয়েছেন। আমি নিরীহ ৬৫ বছর বয়সী শিক্ষক মানুষ। এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমি টিউশনি করে সংসার চালািই। সংসারের শেষ অবলম্বন ছিল আমার বড় ছেলে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল করে আসামিদের জামিন ঠেকানোর সামর্থ্যতো আমার নেই। তারা অসম্ভব ভয়ঙ্কর ও প্রভাবশালী মানুষ। তাদের পক্ষে যে কোন সময় যে কোন ঘটনা ঘটানো সম্ভব। আমার পরিবার নিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//একে/এমএমআর


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।