মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

স্কুল মাদ্রাসা কিংবা বাসা, সবখানে অনিরাপদ শিশু!

ঢাকা : বাড়ির আঙিনা, স্কুলের চার দেয়াল এমনকি নিজ ঘরেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না শিশুর। গেল দুই সপ্তাহে দেশজুড়ে কমপক্ষে ১৫টি যৌন অপরাধ ঘটেছে যার বেশিরভাগের শিকার শিশুরা।

আজ রোববার (৭ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ৬ মাসে সারাদেশে ৩৯৯টি শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি ছেলে শিশু । ধর্ষণের পরে একটি ছেলেসহ মারা গেছে ১৬টি শিশু।

এই তথ্য তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সংগঠনটি সম্প্রতি দেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের প্রতি চলমান সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পাড়ায় পাড়ায় কমিটি গঠন করে এই ধর্ষণ প্রতিরোধ করার আহ্বানও জানানো হয়। একই সঙ্গে অভিভাবক, শিশু সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা- সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পাড়ার তরুণদের সম্মিলিতভাবে এই অপরাধ ঠেকাতে এগিয়ে আসতে হবে বলেও মনে করে সংগঠনটি ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অবদমনের সংস্কৃতির কারণেই মানুষের মধ্যে এমন মানসিকতার বিকৃত রূপ দেখা যাচ্ছে। বাড়ছে ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ। এসব রোধে সমাজে সংস্কৃতি চর্চা যেমন বাড়াতে হবে তেমনি সহশিক্ষার প্রসারেও গুরুত্ব দিতে হবে। ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পুলিশ বলছে এসব অপরাধ বন্ধে তৎপর রয়েছেন তারা। পাশাপাশি কিছু পর্যবেক্ষণও রয়েছে তাদের।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাজধানীর ওয়ারীতে বাড়ির ভবনেই শিশু সামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা, নারায়ণগঞ্জে স্কুলে ২০ ছাত্রী ও পরে মাদ্রাসায় ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির দায়ে দুই শিক্ষক গ্রেফতার। বরগুনায় আরেক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ। একের পর এক যৌন সহিসংতার ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে বাড়ি কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডিতেও কেন নিরাপদ নয় শিশু।

সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, একবারে নির্মূল হবে এটা বলব না, তবে হ্রাস পাবে। যদি জৈবিক ক্ষুধা নিবারণের জন্য সরকারি ব্যবস্থা থাকে অনেকটা কমবে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, আমাদের দেশে যে সহশিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে সেক্সুয়াল হ্যারেজম্যান্ট হয় না। আমাদের এখানে খেলার মাঠ নেই। সরকারের উচিত বড় শহরে যত অ্যাপার্টমেন্ট হবে সেখানে একটা ফ্লোর শিশুদের খেলার জন্য রাখা।

বাংলাদেশে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় কাজ করছেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ ডারা জনস্টন। তার মতে, প্রতিটি শিশু যাতে সুরক্ষিত এবং সব ধরনের সহিংসতা, নিগ্রহ ও অপব্যবহার থেকে মুক্ত থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্যে কাজ করে ইউনিসেফ। বাংলাদেশের সব শিশুকে অবশ্যই যথাযথ দক্ষতা অর্জন করে নিরাপদে এবং উপযুক্ত পরিবেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে সক্ষম হতে হবে। শিশুর অনলাইন সুরক্ষা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত পরামর্শ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মো. সোহেল রানা বলেন, কয়েকটি ক্ষেত্রে সামাজিক অপরাধ বেড়েছে। একজন প্রফেশনাল ক্রিমিনাল না হয়েও শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থে ছোট খাটো অপরাধ করে। এ থেকে অনেক সময় বড় অপরাধ ঘটে যায়।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//জেসি/আরএম


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।