সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ বিশাল এক মহাকাব্য

স্বদেশ ডেস্ক : বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একটি অবিচ্ছেদ্য নাম। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রয়েছে নেতৃত্ব। কিন্তু সেই ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে অজানা।

আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা কর্মসূচি। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশকে জানার কর্র্মসূচি গ্রহণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তারই আলোকে চট্টগ্রামের সেন্ট স্কলাসটিকা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের একদল শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে জানার জন্য একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শর্মিলা দাশ, অপরাজিতা দাশ, তাসনুভা খানম, তাথৈ চৌধুরী, দুররিয়া হোসেইন, তৃষা পাল, অনন্যা দাশ, শিবাঙ্গী গুপ্তা, প্রান্তিকা চৌধুরী ও অর্পণা বিশ্বাস। সেন্ট স্কলাসটিকা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রদত্ত সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর সাক্ষাৎকারটি ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো। আজ বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব।

বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ একটি বিশাল মহাকাব্য। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো মুক্তিযুদ্ধ, শ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন সেই মহাকাব্যের মহানায়ক, বাঙালি জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আজকে আমরা যে স্বাধীন দেশের নাগরিক, তা হতে পারতাম না, বাংলাদেশই হতো না। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। এক কোটির উপরে মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায়। আমরা মুক্তিযোদ্ধারাও প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে গিয়েছিলাম। পাকিস্তানি সৈন্যরা সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিলো। আমরা নয় মাস যুদ্ধ করে দেশটাকে স্বাধীন করেছি। এ যুদ্ধে জাতি অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে। ত্রিশ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। মা-বোন আর পিতা-মাতার কান্না এবং রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর মেধা, বুদ্ধি, সাংগঠনিক দক্ষতা, কৌশল আর নেতৃত্ব-সবকিছু মিলে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ না হলেও তাঁকে একাধিকবার দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। তিনি সাংগঠনিক কারণে চট্টগ্রামে এসে কর্মিসভা এবং জনসভা করেছেন। চট্টগ্রামের নেতৃস্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে বৈঠক করতেন। এ সুবাদে তাঁকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি এবং তাঁর বক্তৃতা শুনেছি। বঙ্গবন্ধু ছাত্রাবস্থা থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি যখন গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের ছাত্র, তখন থেকে সংগঠন করতেন। এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাংগঠনিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে।পরবর্তীতে তিনি ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি পুরোপুরি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন জাত নেতা (Born Leader)। তিনি নেতৃত্বের ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছিলেন এবং অতি অল্প বয়সে তাঁর এই ক্ষমতার প্রকাশ ঘটেছিলো। ছোটবেলা থেকে তিনি একজন স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠেছিলেন। ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং তাঁর ক্যাবিনেটের বাণিজ্য ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ সফরে গিয়েছিলেন।

শেখ মুজিব মন্ত্রীদ্বয়ের সফর উপলক্ষে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছিলেন। দুই নেতা সফরকালে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলও পরিদর্শন করেন। ওই স্কুলেই কিশোর মুজিব পড়াশোনা করতেন। কিশোর মুজিব ওই দিন (১৬ জানুয়ারি, ১৯৩৮) স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রীর পথরোধ করে দাঁড়ান। তিনি দুই মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, আমাদের স্কুলের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে, আমরা ক্লাস করতে পারি না। আমাদের স্কুলের ছাদ মেরামতের আশ্বাস না দিলে আমরা আপনাদের পথ ছাড়বো না।

কিশোর মুজিবের দৃঢ়তা দেখে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক তাঁর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বারশত টাকা প্রদান করেন। দুই মন্ত্রী স্কুল পরিদর্শন শেষে ডাক বাংলোতে ফিরে গিয়ে নিজেদের মধ্যে সেদিনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। কে এই কিশোর, কার এতো সাহস এবং বুকের পাটা যে বাংলার প্রধানমন্ত্রীর পথ আটকে দাঁড়ায়।

সেদিন দুই মন্ত্রী খবর নিয়ে জানতে পারলেন এই কিশোরের নাম ‘শেখ মুজিব’, টুঙ্গিপাড়ার শেখ লুৎফর রহমানের ছেলে। দুই মন্ত্রী তখনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘শেখ মুজিব ভবিষ্যতে একজন বড় নেতা হবেন।’ সেই কিশোরই আজকের বঙ্গবন্ধু; স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান।চলবে

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//এমএমআর


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।