সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

দুর্নীতি বিরোধী  অভিযান মাইলফলক হয়ে থাকুক

প্রধানমন্ত্রী আগেই সতর্ক বার্তা দিয়েছিলেন ছাত্রলীগের দুই শীর্ষনেতাকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে। দেশের ক্ষমতার রাজনীতির ইতিহাসে সেটাও একটা সাহসী এবং যুগান্তকারী ঘটনা ছিল। এর পরের খড়গটা যে এতোটা নির্দয়ভাবে এবং নিজ দলের ভিতরেই নেমে আসবে, তা বোধহয় কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

মাদক এবং অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে সরকারের এই অভিযান সম্প্রতি সবচে আলোচিত ঘটনা। অভিযানের শুরুটা নিজ দলের বিরুদ্ধে হওয়ায় দেশবাসীর ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ক্যাসিনো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে পর্যটনের জন্য বিখ্যাত অঞ্চলগুলোতে স্বীকৃত একটা জুয়া খেলা। তবে বাংলাদেশে এই জুয়া খেলাটির প্রচলনের কোন অনুমতি বা বৈধতা নেই। তাই দেশে এটি নিষিদ্ধ।

তারপরও সরকারি দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে এবং প্রভাব খাটিয়ে যুবলীগের কতিপয় নেতা এই অবৈধ খেলাটি চালিয়ে আসছিল। এতে প্রশাসনের একটি অংশের যোগসাজশ থাকারও অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আয় করছিল। তারা আবার যেমন তেমন নেতা নয়, সবাই শীর্ষ পদ-পদবির অধিকারী।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতির প্রশ্নে কাউকে এক বিন্দু ছাড় দেবেন না।সরকারের আকাশচুম্বি সাফল্য দু-চারজন দুর্নীতিবাজ নেতার কারণে নষ্ট হতে দেবেন না। বাস্তবে ঘটছেও তাই, বাঘা বাঘা নেতাদের গোপন আস্তানায় প্রতিদিন চালানো হচ্ছে অভিযান।আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করে আনছে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, টাকার পাহাড়। গ্রেফতারের মাধ্যমে আলোচিত গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।

দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই অভিযানের ঘটনায় বিস্মিত এবং আনন্দিত। নিজ দলের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ চলছে, প্রধানমন্ত্রী তখন জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদে অংশ নিতে নিউইয়র্কে। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনেও তিনি এ প্রসঙ্গে বক্তব্য রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “দুর্নীতির কারণে সমাজে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। শিশু থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।ফলে সমাজে নানা অরাজক পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হচ্ছে। তাই দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে চান তিনি”।

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ মাধ্যমকে আরো জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তিনি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কোন ধরনের দুর্নীতির কারণে সেটা নষ্ট হোক, তা তিনি করতে দেবেন না। সরকার গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে ব্যয় হয়, সেই পদক্ষেপও তিনি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

মাত্র কয়েকদিন আগে স্বদেশ24 এর সম্পাদকীয়তে আমরা দুর্নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর মনোভাবের কথা উল্লেখ করেছিলাম। এক শ্রেণির হাইব্রিড এবং উচ্চাভিলাষী নেতা- যারা আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি রাজনৈতিক দলকে উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ এবং অবৈধ আয়ের সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। তাদের ব্যাপারে দলীয় প্রধানের হুঁশিয়ারি বার্তা সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলাম।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কেউ কেউ এই অভিযানকে লোক দেখানো বলে উল্লেখ করলেও বাস্তবচিত্র অন্য রকম। চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান দিনে দিনে ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংবাদে এসেছে, সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, এম.পি., উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়রসহ জনপ্রতিনিধি এবং দলের (আওয়ামী লীগ) শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় দুই শতাধিক নেতা-কর্মীর নামের তালিকা প্রস্তত করা হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্যে ।

প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাবার পর এই তালিকা ধরে দুদক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এন.বি.আর.) কাজও শুরু করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন, দুর্নীতিবাজদের কারণে দেশে আরেকটি ওয়ান ইলেভেনের পরিস্থিতি তৈরি হোক- সেটা তিনি হতে দেবেন না। তাই তাঁর সরকারের এই অভিযান।

দেশের সর্বস্তরের মানুষও তেমনটি প্রত্যাশা করে। কেবল অবৈধ ক্যাসিনো কিংবা মাদক নয়, ঘুষখোর, ভূমিদস্যু, বন্দরখেকো, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটেরাসহ সমস্ত অনিয়মের ঘাঁটিতেও এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হোক। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রশাসনসহ সকল সেক্টরের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি ।দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করা হোক।

দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে চলমান এই অভিযান যেন স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকে- তেমনটি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

সম্পাদক, স্বদেশ24


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।