রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৩২ অপরাহ্ন

ভিড় রিয়াজউদ্দিন বাজারে

চট্টগ্রাম: দশদিনও হাতে নেই, এরই মধ্যে শেষ করতে হবে ঈদের সকল কেনাকাটা। আর ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মার্কেটলোতে ততই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। সাধারণ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ কেনাকাটার জন্য রিয়াজউদ্দিন বাজারকেই বেছে নেন বরাবর।

মেয়েদের কাছে এবছর ভারতীয় পোশাকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গ্রাম কিংবা শহরের সব শ্রেণির তরুণীরা ভারতীয় পোশাক লেহেঙ্গা,লাছা, গাউন খুঁজছেন। এ বছর নারী পোশাকের মধ্যে থ্রি পিসের মূল্য সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা।

ঈদের কেনাকাটার জন্য ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলের শত বৎসরের পুরানো রিয়াজউদ্দিন বাজার সব বয়েসীদের কাছে প্রিয়। তার কারণ প্রথমত এ বাজার হচ্ছে পরিধেয়  বস্ত্র , খাদ্যদ্রব্য, প্রসাধন দ্রব্য হতে শুরু করে প্রয়োজনীয় সমস্ত পণ্যের পাইকারী খুচরা-বিক্রয়ের জন্য চট্টগ্রামের বৃহৎ বানিজ্যকেন্দ্র ।  সেহেরীর সময় অবধি এখানে বিরামহীন কেনাকাটায় জমজমাট হয়ে উঠেছে ঈদ বাজার। আবার ছেলেদের পোশাক বিক্রিতেও কমতি নেই, শার্ট পেন্টের পাশাপাশি  পাঞ্জাবি ব্যাপক  বিক্রি  হচ্ছে ।

ছেলেদের পোশাকের মধ্যে পাঞ্জাবির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন ভিআইপি পাঞ্জাবি হাউজের মহসিন পাশা রিপন । তিনি বলেন এই প্রতিষ্ঠানে বৈচিত্র্যময় সর্বনিম্ন ১৫৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে।

আর শাড়ির বাজার নিয়ে বেনারসি ভাণ্ডার এর মাহাবুব আলম জানান, এই বছর  ঈদ মার্কেটে ভারতের চেন্নাই, কলকাতা, ব্যাঙ্গালোর, দিল্লি ও জয়পুর থেকে বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের শাড়ি এসেছে। এগুলোর মধ্যে জুট কাতানের দাম পড়ছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, রাজস্থান সিল্ক ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, ভেলবেট সিল্ক ২৫ থেকে ৩৫ হাজার, চেন্নাই কাতান ১০ থেকে ১৫ হাজার, বেনারসি ১৫ থেকে ৪০ হাজার, নেটের শাড়ি ৪ থেকে ১০ হাজার, ব্যাঙ্গালোর কাতান ৫ থেকে ১০ হাজার, অপেরা কাতান ১৫ থেকে ৩০ হাজার, টাঙ্গাইল সিল্ক ৭০০ থেকে ২ হাজার এবং দেশি সুতি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা।

শাড়ি কিনতে আসা পাথরঘাটার ফাতেমা নেওয়াজ জানান, দোকানে বিক্রি হচ্ছে নানা কারুকাজ  করা বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি শাড়ি। তবে দেশীয় সুতি শাড়ির প্রতি আমার আকর্ষণ বরাবর। এগুলোর দামও রয়েছে মোটামুটি। শাশুড়ির জন্য শাড়ি কিনেছি এখান থেকে। বহদ্দারহাট থেকে আসা চাকরীজীবী ফজলে রাব্বী বলেন,অনেকে সড়কের পাশে গাড়ি রেখে কেনাকাটা করতে মার্কেটে ঢোকেন, ফলে রাস্তায় ভয়াবহ যানজট লেগে থাকে। পার্কিং ব্যবস্থা রাখা দরকার। তা ছাড়া ক্রেতাদের জন্য কোন টয়লেট সুবিধা রাখা হয়নি। অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশ। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তাই উচিত এই মার্কেটের পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করা অন্যথায় শত বছরের ঐতিহ্য হারাবে রিয়াজউদ্দিন বাজার ।

রিয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম জানান, যেহেতু ক্রেতাদের স্বাভাবিক চাহিদা হচ্ছে ভাল পণ্য অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যে ক্রয় করা। নগরীর সকল মার্কেটের সাথে চ্যালেঞ্জকৃত স্বল্পমূল্যে ভাল পণ্য সরবরাহ করে এখানকার ব্যবসায়ীরা। কারণ এখানে বংশানুক্রমে যারা ব্যবসা করেন তারা শুধু চট্টগ্রামের নয় সারা দেশেরই খ্যাতিমান ও জাত ব্যবসায়ী।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের সহায়তায় সাদা পোষাকধারী পুরুষ ও মহিলা পুলিশের সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে পকেটমার, ছিনতাইকারী ও বখাটেদের উৎপাত থেকে ক্রেতা সাধারণ যেন রক্ষা পায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব সিকিউরিটি গার্ডও রাখা হয়েছে।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//এমআর/আরএম

 

 

 


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।