বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ০৫:০২ অপরাহ্ন

রুপপুর বালিশ কাহিনী যেন এখানেই শেষ না হয়

ডেস্ক: চলতি সপ্তাহে দেশে সবচে বেশি আলোচিত শব্দের নাম কী? এই জিজ্ঞাসার উত্তরে সচেতন যে কোন নাগরিকই খুব দ্রুত বলে দেবেন—“ বালিশ”।সাম্প্রতিক সময়ে এই বালিশ শব্দটি নিয়ে সংবাদ মাধ্যম, বেসরকারি টেলিভিশনের চ্যানেলগুলো এবং সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধ্যমে এতো বেশি বাক্য উচ্চারিত হয়েছে, যা নতুন করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

প্রাণিকূলের শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের নিদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটির নাম বালিশ—এটা কারো অজানা বিষয় নয়। বালিশ ছাড়া বিছানা যেন কল্পনাও করা যায় না। এই বালিশ শব্দটিকে সাম্প্রতিক ব্যাপক আলোচনায় নিয়ে এসেছে মাসুদুল আলম নামে এক ভদ্র (?) লোক।

তিনি বহুলআলোচিত রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন।অবশ্য ছিলেন বলা যাবে, কারণ এখন নেই। তার কারণ, মাসুদুল আলমের মতো এতো বড় গুণিজনের কদর দেবার মতো অবস্থা দেশে এখনো তৈরি হয়নি!

গ্রিন সিটি প্রকল্পে তার প্রদত্ত দরপত্রে মাথায় দেবার একটা বালিশের দাম হাঁকা হয়েছে মাত্র ছয় হাজার টাকা। চায়ের কেটলি নিচতলা থেকে উপরে নেবার পারিশ্রমিক মাত্র তিন হাজার টাকা। পুকুরচুরি, দিঘিচুরি—এসব তো মাসুদুলের দরপত্রের কাছে যেন কিছুই নয়। তবে, সমুদ্রলুন্ঠন আর কাকে বলে?

বর্তমান সরকার যখন তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড একটির পর একটি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে, তখন মাসুদুলের মতো ব্যক্তিরা সঠিক সহযাত্রীই বটে! কীভাবে সরকারি প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে আরো অধিক ব্যয় করা যায়, তা তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন যেন।

বেরসিক দুদক ইতোমধ্যে গ্রিন সিটি প্রকল্পের কেনাকাটার আলোচিত এই দরপত্র নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ শুরু করেছেন।এই বিষয়ে ইতোপূর্বে গঠিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দু’টি তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাবার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান।

রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আসবাবপত্র কেনার সেই দরপত্র নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।একজন সচেতন আইনজীবী বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আদালতের দারস্থ হন।তিনিই বিষয়টিকে সবচে বেশি সামনে নিয়ে আসেন। তাকে সাদুবাদ দিতেই হয়।

এরপরই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসেছে।ইতোমধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।বিষয় যেন এখানেই শেষ না হয়।এদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অসংখ্য মাসুদুল ঘাঁপটি মেরে আছে।সঠিক বিচার হয় না কিংবা আইনের ফাঁক-ফোকর গলে বেরিয়ে যায় বলেই এই ধরনের মাসুদুলদের জন্ম হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন একটা কৌতুক পোস্ট দিয়েছেন। ‘পাত্রপক্ষ কণে দেখতে এসেছেন।কণের অভিভাবক জিজ্ঞেস করলেন, পাত্র কী কাজ করে? পাত্রের অভিভাবক জানালেন, সে অর্থাৎ পাত্র রুপপুরে বালিশ সরবরাহ করে।উত্তর শুনে কণেপক্ষ তাদের সম্মতি জানিয়ে বল্লেন, আলহামদুলিল্লাহ ! আমরা এই বিয়েতে রাজি’।

রুপপুরের এই “বালিশ” বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে যথেষ্ট হাস্যরসেরও সৃষ্টি হয়েছে।বালিশ নিয়ে প্রতীকী মিছিলও হয়েছে।তবে বিষয়টি কোন অবস্থাতেই হেসে উড়িয়ে দেবার মতো নয়।এসব অপকর্মের সাথে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের অপকর্ম করার আগে দশবার ভাবে।

সম্পাদক, স্বদেশ24


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।