সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

রেলের টিকিট : অধিকাংই অবিক্রিত, তবে কাউন্টারে নেই!

চট্টগ্রাম: মঙ্গলবার (২১ মে) মধ্যরাতে চারটি টিকিটের জন্য চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঢাকা গেণ্ডারিয়ার বাসিন্দা আহমদ আলী। আজ বুধবার (২২মে) সকাল ৯টায় কাউন্টার খোলার একঘণ্টা পর সুবর্ণ এক্সপ্রেসের একটি টিকিট পেয়ে হাসিমুখে ফিরে গেলেন।

আরেকজন ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা খালেদ হোসেন সেহেরি খেয়ে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বুধবার ভোর পাঁচটায়। বেলা ১১টার দিকে তিনি যখন কাউন্টারের সামনে এলেন তখন ভেতর থেকে বলা হলো-‘টিকিট নেই’। এ কথা শোনার পর হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে খালেদ বললেন, ‘মঙ্গলবার রাত দশটা থেকে অ্যাপসে ঢোকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সার্ভারে ঢোকা যায়নি। বাধ্য হয়ে কাউন্টারে এলাম। কিন্তু টিকিটের দেখা পেলাম না। বেলা ১১টার মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি শেষ বলে জানান কর্মকর্তারা।’

টিকিট পেয়ে একজন যুদ্ধজয়ের হাসি দিলেও খালেদ হোসেনের মতো অসংখ্য মানুষ টিকিট না পেয়ে হতাশায় ফিরে গেছেন।

আজ বুধবার (২২ মে) সকালে সরেজমিন চট্টগ্রাম রেলস্টেশন গিয়ে টিকিট নিয়ে মানুষের হাহাকারের এ চিত্র দেখেছেন স্বদেশ টুয়েন্টিফোরের এই প্রতিবেদক।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানালেন, কাউন্টারের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিটের অধিকাংশ বিক্রি হলেও অ্যাপসে দেওয়া অধিকাংশ টিকিট অবিক্রিত রয়েছে। এজন্য তিনি দুষছেন কম্পিউটার নের্টওয়ার্ক সিস্টেমকে (সিএনএস)।

রেলের এক কর্মকর্তা জানান, ৫০ শতাংশ টিকিট অ্যাপসে দেওয়া হলেও মঙ্গলবার থেকে সার্ভার রহস্যজনক কারণে খুব ধীরগতির । তবে কাউন্টারে এসে বিপুল সংখ্যক মানুষ টিকিট না পাওয়ার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশন মাস্টার নিজাম উদ্দন জানান, দশটি আন্তঃনগর ট্রেনের (৩১ মে) টিকিট বরাদ্দ ছিল মোট ৭ হাজার ২৫০টি। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬২৫টি টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা ছিল কাউন্টারে। বাকি ৫০ শতাংশ টিকিট অ্যাপসে। বুধবার কাউন্টারে দশটি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৭৭৮টি। অবিক্রিত রয়েছে ১ হাজার ৮৪৭টি । অ্যাপসে বিক্রি হয়েছে ৮৯১টি। অবিক্রিত রয়েছে ২ হাজার ৭৩৪টি টিকিট। কাউন্টার আর অ্যাপস মিলে ৩১ মে‘র টিকিট অবিক্রিত রয়েছে মোট ৪ হাজার ৫৮১টি। কাউন্টারে দেওয়া মোট ৩ হাজার ৬২৫টি টিকিটের মধ্যে ১ হাজার ৮৪৭টি টিকিট অবিক্রিত থাকলেও বেলা ১১টায় কেন কাউন্টারে ৩১ মে’র টিকিট নেই বলে বলা হলে কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।  নাম প্রকাশ না করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, কাউন্টারে অবিক্রিত ১ হাজার ৮৪৭ টিকিটের মধ্যে বেশিরভাগই চলে গেছে কালোবাজারিদের হাতে। কিন্তু এ অভিযোগ আস্বীকার করেছেন স্টেশন ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ।

জানা গেছে, আজ বুধবার কাউন্টারে সুবর্ণ এক্সপ্রেস এর ৩১ মে’র টিকিটি বিক্রি হয়েছে ৪০৭টি, অ্যাপসে বিক্রি হয়েছে ২৭২টি, বিজয় এক্সপ্রেস’র কাউন্টারে ৩৩৪টি, অ্যাপসে ১৩৪টি, চট্টলা এক্সপ্রেস’র কাউন্টারে বিক্রি হয়েছে ১৫৭টি, অ্যাপসে ১৫০টি, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’র কাউন্টারে বিক্রি হয়েছে ১০১টি, অ্যাপসে ২৬টি, মহানগর একপ্রেস’র কাউন্টারে বিক্রি হয়েছে ১৯৯টি, অ্যাপসে ৭২টি, মহানগর গোধূলী’র কাউন্টারে হয়েছে ১১৯টি, অ্যাপসে ৫৪টি। মেঘনা এক্সপ্রেস’র কাউন্টারে বিক্রি হয়েছে ১৬৬, অ্যাপসে ৪৮টি,   উদয়ন একপ্রেস’র কাউন্টারে বিক্রি হয়েছে ৩৯টি, অ্যাপসে ১১টি, তুর্ণা একপ্রেস’র কাউন্টারে বিক্রি হয়েছে ১৬৫টি, অ্যাপসে ৬৩টি এবং সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’র কাউন্টারে বিক্রি হয়েছে ১১১টি, অ্যাপসে ৬৩টি।

রেল সূত্র জানায়, কাউন্টার ও অ্যাপস মিলে সুবর্ণ এক্সপ্রেস’র টিকিট বরাদ্দ ছিল ৮৯৩টি, বিজয় এক্সপ্রেস’র ৬৮৫টি, চট্টলা এক্সপ্রেস ৫০১টি, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ৭২২টি, মহানগর একপ্রেস ৭৫১টি, মহানগর গোধূলী ৭০৯টি, মেঘনা এক্সপ্রেস ৫৮৪টি, উদয়ন একপ্রেস ৯৫৩টি, তুর্ণা একপ্রেস ৭৮৪টি এবং সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’র ৬৬৮টি।

বুধবার চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে গেলে কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পাওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের হতাশার কথা এ প্রতিবেদককে জানান। চাঁদপুরের বাসিন্দা নিয়াজ মোরশেদ বলেন, ‘টিকিটের জন্য বুধবার ভোরে কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়েছি। বেলা ১১টায় বলা হয় টিকিট নেই।’  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবুল কালাম বলেন, ‘৩১ মে’র টিকিটের জন্য মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে অ্যাপস লগইন করছি। কিন্তু লগইন ফেল দেখাচ্ছে।’ আবুল কালামের প্রশ্ন অ্যাপস যদি না-ই  খুলে তাহলে ৫০ শতাংশ টিকিট অ্যাপসে বিক্রির কথা কেন বলেছে রেল কর্তৃপক্ষ?’

অনলাইনে টিকিট পেতে নানা ভোগান্তির অভিযোগ  পেয়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমের সার্ভার রুমে গেলে সেখানকার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অতিরিক্ত চাপের কারণে সার্ভার ধীরগতির হয়েছে।  সার্ভারটি ডেভেলপমেন্টের কাজ চলছে।’ অভিযোগ আছে, বুধবার সকাল ৯টায় টিকিট বিক্রি শুরুর পর থেকে রহস্যজনক কারণে অ্যাপসটি নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। এ কারণে গ্রাহক টিকিট কিনতে পারেননি।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর// এমআর/আরএম

 

 

 


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।