বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

এবারও জোড়াতালির কোচ দিয়ে ঈদ সামাল দেবে রেলওয়ে

চট্টগ্রাম: এবারও জোড়াতালির কোচ দিয়ে ঈদ সামাল দেবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর বাড়তি চাপ সামলাতে নগরের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে দীর্ঘদিন অচল পড়ে থাকা ৭৩টি জীর্ণশীর্ণ কোচ  মেরামত কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

আজ বুধবার (১৫ মে) রাতে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন জানান, ঈদে যাত্রীসেবায় ৮০৩ কোচ ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। ঈদে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় বর্তমানে সচল থাকা ৭৩০টি কোচের সঙ্গে আরও যুক্ত হবে ৭৩টি। গত ১৪ মে পর্যন্ত  ওয়ার্কশপ  থেকে পরিবহন শাখায় ২৮টি কোচ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৪৪টি কোচ আগামী ৩০ মে’র মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে পড়ে থাকা ৭৩টি  কোচের বেশিরভাগের অবস্থা জীর্ণশীর্ণ। অথচ এসব কোচ দিয়েই এবার ঈদে যাত্রীসেবা দেওয়া হবে।পাহাড়তলীর ১১টি ওয়ার্কশপে পুরনো কোচ মেরামত কাজে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। চলছে মূল অবকাঠামোর সঙ্গে কোচ জোড়া লাগানোর কাজ।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক  সৈয়দ ফারুক হোসেন জানান, যে ট্রেনগুলোয় কোচের সমস্যা ছিল সেগুলো ঈদের আগেই মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে ওয়ার্কশপে দ্রুত কাজ চলছে।  কোচগুলোর মেরামত কাজ সম্পন্ন হলে ঈদের বাড়তি চাপ সামলানো সম্ভব হবে। এবার ঈদে বাড়তি চাপ সামলানোর জন্য অচল পড়ে থাকা জীর্ণশীর্ণ কোচ মেরামত করার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

জানা গেছে, জীর্ণশীর্ণ কোচ মেরামত করে রেল কর্তৃপক্ষ কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারবে কী না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ ঈদে বেশিরভাগ যাত্রী টিকিট না পেয়ে সড়কপথে গন্তব্যে যান। সড়কপথে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ এবং  কষ্টদায়ক। কর্মকর্তারা জানান, ঈদে বাড়তি যাত্রী পরিবহনের জন্য বর্তমানে  যে ৭৩টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে এসব কোচ দিয়ে  ঘাটতি পূরণ হবে। যাত্রীসেবার মান বাড়বে না। এ অবস্থায় এ ঈদে বাড়তি যাত্রী সামাল দেওয়া নিয়ে চিন্তিত  রেলকর্মকর্তারাও।

আজ বুধবার (১৫ মে) দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ২২ মে থেকে ঈদের অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। কমলাপুরসহ ঢাকার ৫টি জায়গা থেকে এ টিকিট দেওয়া হবে। প্রতিদিন ঢাকায় প্রায় ২৭ হাজার টিকিট দেওয়া হবে, যার অর্ধেক পাওয়া যাবে মোবাইল অ্যাপস থেকে আর বাকি অর্ধেক সংগ্রহ করতে হবে কাউন্টার  থেকে। শাহজালাল বিমানবন্দর কাউন্টার থেকে দেওয়া হবে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তনগরের টিকিট।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিবছর ঈদের আগে শুধু পূর্বাঞ্চলে ৭০ থেকে ৭৫টি কোচ বাড়তি সংযোজন করা হতো। থাকত বিশেষ  ট্রেনের ব্যবস্থা। তবে এবারও ঈদ উপলক্ষে থাকছে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা। কিন্তু  সেই অর্থে বাড়তি যাত্রী পরিবহনে রেলের বিশেষ প্রস্তুতি  নেই।  মোহাম্মদ আমজাদ নামে এক যাত্রী বলেন, আন্তনগর ট্রেনের সাধারণ কোচে ভ্রমণ বেশ বিরক্তিকর। একে তো পুরোনো  কোচ, আসনের নিচে ছারপোকার বাসা। টয়লেটের দুর্গন্ধ।’

কর্মকর্তারা জানান, রেলপথে যাত্রীদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এপথ নিরাপদ ও সাশ্রয় হওয়ায় সাধারণ মানুষ  ট্রেনে ভ্রমণ করতে আগ্রহী। সাম্প্রতিক বছরগুলোয়  রেলওয়েতে নতুন ইঞ্জিন ও কোচ যুক্ত হয়েছে। ট্রেনের টিকিট কাটা আধুনিকায়ন হয়েছে। কিন্তু বাড়েনি যাত্রীসেবার মান।

জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন চট্টগ্রাম রেলস্টেশন  থেকে সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার এবং কমলাপুর রেলস্টেশন  থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়। কিন্তু এর বিপরীতে এ দুই  স্টেশনে অগ্রিম টিকিটের তুলনায় ২ থেকে ৩ গুণ যাত্রী লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু অনেকের ভাগ্যে  জোটে না টিকিট। জানা গেছে, রেলওয়েতে প্রতিদিন দুই লক্ষাধিক যাত্রী চলাচল করেন। ঈদ উপলক্ষে এ সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু কোচ সংকটে হাজার হাজার যাত্রী ট্রেন ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//এমআর/আরএম


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।