শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

টেনশন হলেই পেট গুড়গুড়? অবহেলা করলেই বিপদ!

ইরিটেবল বাওয়েল সিস্টেম আদতে লাইফস্টাইল অসুখের তালিকায় পড়ছে

ডেস্ক : কোনও কারণে টেনশন হচ্ছে। দরদর করে ঘামছেন। কখনও বা বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিছুদূর গিয়েই ফিরে এলেন। ভাবছেন, এক বার টয়লেটে যেতে পারলে ভাল হয়। ভাবছেন, পরীক্ষার উদ্বেগ আর বেরোনোর তাড়াহুড়োই মনের উপর চাপ ফেলে মামুলি পেটের অসুখ বাঁধিয়েছেন বোধ হয়। বেরনোর সময় ঘন ঘন বাথরুমে ছোটা বা টেনশনের সময় পেটে মোচড় অনেকেই পেটের সমস্যা বলে দেগে দেন।

কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন গোড়ায় গলদ। পেটের অসুখ মোটেই নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের অনিয়মের কারণেই আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রোগটির নাম ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম’ বা আইবিএস। এই রোগে রোগীর নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাসটাই বদলে যায়।  যখন তখন মলত্যাগের প্রবণতা তৈরি হয়। বিশেষত উদ্বেগের সময় সমস্যা বাড়ে।

আইবিএস-মানসিক চাপ সম্পর্ক

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কৃষ্ণাঞ্জন চক্রবর্তী বলছেন, উদ্বেগ, মানসিক চাপ এই ধরনের মানসিক সমস্যাগুলির সঙ্গে সরাসরি হজমের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু এই সমস্যাগুলি আমাদের জীবনযাপনে যে বড় পরিবর্তন আনে, সেগুলিই আমাদের আইবিএস-এর দিকে ঠেলে দেয়।

নিয়মিত ঘুমের অভাব, জাঙ্কফুড বেশি খাওয়া আইবিএস ডেকে আনে অনেক বেশি করে। আগে মনে হত আইবিএস শুধু ব্যাকটিরিয়াল ইনফেকশন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আরও নানা কারণে কোলনের গতি অস্বাভাবিক হয়ে গিয়ে এই রোগ হতে পারে। আগে পঞ্চাশোর্ধদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যেত। এখন কমবয়সিরাও অনেকে এই রোগে আক্রান্ত। এটিকে আজকাল লাইফস্টাইল ডিজিজের তালিকায় ফেলা হয়।

যখন তখন পেটে ব্যথাও ইররিটেবল বাওয়েল সিস্টেমের অন্যতম উপসর্গ

মূল উপসর্গ

এই অসুখে মূলততলপেটে মাঝে মাঝেই মোচড় দেওয়া ব্যথা হয়। সঙ্গে যখন তখন মলত্যাগের প্রবণতা দেখা যায়। এ ছাড়াও মলদ্বার থেকে রক্তপাত, বমিভাব ও রক্তালপতাও দেখা যায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে।

উপসর্গ অনুযায়ী আইবিএস-এর চিকিৎসা বদলায়। জীবনাচরণ বা খাদ্যাভাসের পরিবর্তনে সমস্যার অর্ধেক  সমাধান সম্ভব। এর সঙ্গে অল্প কিছু ক্ষেত্রে কিছু ওষুধের প্রয়োজন হয়।

কী করবেন, কী করবেন না

প্রতিদিন একসময়ে খাওয়া অভ্যেস করুন। দুপুর বা রাতের খাবার বাদ দেওয়া চলবে না কোনও মতেই।

রাতের খাওয়ার সময় এগিয়ে আনুন।

অতিরিক্ত চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন।

ডাল ও ডালজাতীয় খাবার, অতিরিক্ত ফল, ফলের জুস এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।

দুধ-দুধজাতীয় খাবার কম কাওয়াই ভাল, তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রোবায়োটিক খানিকটা উপকারও করে। শরীরের ধরনের উপর নির্ভর করে তা। তাই এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিন।

প্রতিদিন কমবেশি ব্যায়াম করুন। খুব চাপ থাকলে হাঁটুন। তাতে পরিপাকতন্ত্র ভাল থাকবে।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//আবা/জেসি


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।