শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ১১:০৯ অপরাহ্ন

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার, স্বস্তিতে সাড়ে চার লাখ গ্রাহক

চট্টগ্রাম: প্রিপেইড মিটারে বন্ধ হচ্ছে বিদ্যুৎ চুরি। প্রিপেইড মিটার বিদ্যুতের অপচয় কমিয়েছে। ভুতুড়ে বিল নেই্।বিল পরিশোধ নিয়েও কমেছে গ্রাহকের ভোগান্তি।  গ্রাহকেরা আছেন স্বস্তিতে।

পিডিবি’র দক্ষিণাঞ্চলীয় জোনের প্রিপেইড মিটারের প্রকল্পের পরিচালক কামাল উদ্দিন এমনটাই জানিয়েছেন স্বদেশ টুয়েন্টিফোরের এই প্রতিবেদককে।

তিনি বলেন, নগরের সাতটি  ডিভিশনে বিদ্যুৎ গ্রাহক আছে ৬ লাখ। এর মধ্যে সাড়ে চারলাখ গ্রাহক ইতোমধ্যেই বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছে। আগামী বছরের মধ্যে বাকি দুই লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসে যাবে।

পিডিবি কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম শহরের দুই তৃতীয়াংশ গ্রাহক বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছে। আগ্রাবাদ, পাহাড়তলী, খুলশি ও স্টেডিয়াম জোনে চার লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের  আওতায় এসেছে। চলতি বছরের মধ্যে রামপুর, বাকলিয়াসহ আরও তিনটি জোনে দুই লাখ গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের  আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার প্রকল্পটির নাম ‘প্রিপেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর ডিস্ট্রিবিউশন সাউদার্ন  জোন’। সরকারি অর্থায়নে নগরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পিডিবি। পুরো প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৭ কোটি টাকা। পিডিবি সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়। নানা জটিলতার কারণে যথাসময়ে এর বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা যায়নি। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির মেয়াদ তিন দফা বাড়ানো হয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত  প্রকল্পটির মেয়াদ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মিটার তৈরি ও বসানোর জন্য ২০১৫ সালের মার্চে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না হেক্সিং ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড’-এর সঙ্গে চুক্তি হয় পিডিবির।

আগ্রাবাদ বড়পোল এলাকার গ্রাহক তপন চক্রবর্তী বলেন, ‘চুরি রোধ ও সিস্টেম লস কমানোসহ বিদ্যুৎ খাতে শৃঙ্খলা এনেছে প্রিপেইড মিটার সিস্টেম। এছাড়া ভুতুড়ে বিল রোধ, সহজে টাকা রিচার্জ করার সুবিধা ও জামানতবিহীন সংযোগের সুবিধা থাকায় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে প্রিপেইড মিটার পদ্ধতি। পাহাড়তলী এলাকার গ্রাহক রহমান আলী বলেন, ‘মাস শেষে বাড়তি বিলের টেনশন নেই। এখন হিসেব করে খরচ করি। আগে এক মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত ১২‘শ টাকা। এখন মাস শেষে খরচ হচ্ছে ৭০০ -৮০০ টাকা।’

তবে গ্রাহকদের অভিযাগ, প্রিপেইড মিটার বাস্তবায়ন পর্যায়ে আধুনিক এ ব্যবস্থার অগ্রগতি খুবই ধীর। শহরের যেসব জায়গায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে  সেখানেই কিছু গ্রাহকের মধ্যে অসন্তোষ  দেখা দিয়েছে। সংযোগ পেতে বিলম্ব, মিটারে ত্রুটি দেখা দিলে সমাধানে সময়  ক্ষেপণ ইত্যাদি বঞ্চনা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকেরা। খুলশি ১ নম্বর সড়কের গ্রাহক আমজাদ হোসেনের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটারে ত্রুটি দেখা দিলে তা সহজে সারানো যাচ্ছে না। পিডিবির লোকদের বকশিস না দিলে সমস্যা সমাধানে আসেন না তারা। ফলে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে হয় বিদ্যুৎহীন।

পাহাড়তলী বার কোয়ার্টার এলাকার গ্রাহক রমিজ মিয়ার অভিযোগ, প্রিপেইড মিটারের স্মার্ট কার্ড একবার হারিয়ে যায়। আবেদন করেও নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে পিডিবির কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রিপেইড মিটারের সাথে গ্রাহকদের খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। তাই হয়তো কিছু ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। বিতরণ সংস্থাগুলোরও প্রস্তুতির কিছুটা ঘাটতি ছিল। সেটি এখন দূর করার চেষ্টা চলছে।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//এমআর/আরএম


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।