মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

ফণীর ভয়াল ফণা এবং তথ্য প্রযুক্তি সুফল

বহুল আলোচিত ঘূর্ণিঝড় ফণী শেষ পর্যন্ত তার আগ্রাসী ফণা নামিয়ে বিদায় নিয়েছে।বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। একই সাথে ভারতের উড়িশ্যাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলও ব্যাপক প্রাণহানি থেকে বেঁচে গেছে।

এর পিছনে সবচে বেশি কাজ করেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণ। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নদী ও চরাঞ্চলসহ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার মানুষকে আগে ভাগেই সতর্ক করেছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সিগন্যাল ঘোষনার পর থেকে সরকারি- বেসরকারি সংস্থাগুলো সম্ভাব্য বিপদসংকূল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে সবাই মুহূর্তে মুহূর্তে আবহাওয়ার সর্বশেষ সংবাদ জানতে ও সংশ্লিষ্টদের জানাতে পেরেছেন।

এসব স্বেচ্ছাসেবীরা উপকূলীয় এলাকার মানুষকে আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সম্পর্কে অবহিত করেন।মানুষজনও অতীতের ঘূর্ণিঝড়জনিত ব্যাপক ক্ষতি থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তাই তারা সময় মতো অর্থাৎ বিপদ সংকেত বৃদ্ধি পাওয়ার পরপরই আশ্রয়স্থলের দিকে ছুটে গেছেন। যে কারণে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বাংলাদেশে ফণীর প্রভাবে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় মারা গেছে মাত্র ৭জন।যদিও বেসরকারিভাবে মৃতের এই সংখ্যা ১২জন। তারমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে যায় নাই, এমন একটি পরিবারের তিনজন মারা গেছে ঘরচাপা পড়ে।যদিও অনাকাঙ্খিত কোন মৃত্যু কখনোই কারো কাছে কাম্য নয়।তারপরেও বলতে হয়, পরাক্রমশালী ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে এই অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ায় সাত কিংবা বারোজনের মৃত্যু তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সংখ্যা হয়তো নয়।

একই ভাষ্য প্রযোজ্য ভারতের উপকূলীয় এলাকার ক্ষেত্রেও। উড়িশ্যার পুরী, ভূবেনশ্বর প্রভৃতি এলাকা ফনীর মারাত্মক ছোবলে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।কিন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ছিল মাত্র ১১জন।এর কারণও ছিল ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী আগাম সতর্কতা। বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই ফণী দুর্বল হয়ে গেলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত হেনেছে।

কিন্ত ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোতে দুই দেশেই প্রাণহানির মতো বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে পেরেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় গর্কির ভয়াবহ আঘাতের করুণ স্মৃতি এই দেশের মানুষের মনে এখনো জাগৃত হয়ে আছে। এবারে জনসচেতনতার ক্ষেত্রে সবছে বেশি কাজ দিয়েছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার।

আগেই বলা হয়েছিল, গত ৪০বছরের মধ্যে ফণীর মতো শক্তিধর ঘূর্ণিঝড় আর দেখা যায়নি। চার দশক ধরে এটি ধীরে ধীরে তার শক্তি সঞ্চয় করেছে।এই সংবাদগুলো প্রচারের ফলে প্রবল ভয়-ভীতির সাথে মানুষের মাঝে তাই সচেতনতাও ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।

মোবাইল ফোনে, রেডিওতে কিছুক্ষণ পরপর তারা ফণীর আবস্থান সম্পর্কে সর্বশেষ সংবাদ জানতে পেরেছেন। যারা টেলিভিশনের সামনে ছিলেন, তারা বিভিন্ন চ্যানেলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত ফণীর ইমেজ সরাসরি দেখতে পেয়েছেন। সেই তথ্য চিত্র তারা আবার উপকূলে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের সাথে আদান প্রদান করেছেন। ফলে নানাভাবে মানুষ এবারে ঘূর্ণিঝড়ের আক্রমণ নিয়ে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করতে পেরছেন।

তথ্য প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার সত্যিকারভাবে মানুষকে সচেতন করতে পেরেছে।এর সুফল পেয়েছেন সমুদ্র উপকূলের মানুষ।হয়তো তাই সৃষ্টিকর্তাও সদয় ছিলেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেয়েছে এই জনপদ।

সম্পাদক, স্বদেশ24


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।