বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে আঘাত হানা কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়

ঢাকা: প্রবলবেগে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হবে এই ঝড়। বর্তমানে এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। আগাম প্রস্তুতি থাকার কারণে বাংলাদেশে এর ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফণীর আগে আরও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ঝড় বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে ‘দ্য গ্রেট বাকেরগঞ্জ ১৮৭৬’, ১৯৭০ সালের গোর্কি ও ১৯৯১ সালের ম্যারিএন ঝড় অন্যতম।

অক্টোবর মাসের শেষ দিনটিতে বয়ে যাওয়া ‘দ্য গ্রেট বাকেরগঞ্জ ১৮৭৬’র কারণে নিম্নাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়ে যায়।মেঘনার মোহনা এবং চট্টগ্রাম, বরিশাল ও নোয়াখালী উপকূলে তীব্র ঝড়ো জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবন সংঘটিত হয়।আনুমানিক ২ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এই ঘূর্ণিঝড়ে। দুর্যোগ পরবর্তী মহামারী এবং দুর্ভিক্ষে আরও বহু মানুষের মৃত্যু হয়। পৃথিবীর ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাসে ষষ্ঠ স্থান দখল করে আছে বাকেরগঞ্জ ঘূর্ণিঝড়।

১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় গোর্কি । এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে এটি সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ংকরতম প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি। এটি ছিল ‘ক্যাটাগরি ৩’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। রাতে উপকূলে আঘাত হানা এ ঝড়ের কারণে প্রায় ৫ লাখ ব্যক্তি প্রাণ হারান। এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার।

১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ আঘাত হানা ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়টি ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়। এই ঝড়ের ফলে দেশে যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বন্যা হিসেবে পরিচিত। ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের ফলে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রায় পাঁচ হাজার ৭০৮ জন প্রাণ হারান। ঝড়ে উপকূল এলাকায় প্রচুর অবকাঠামোগত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।ঝড়ে ৬৫ হাজার গবাদিপশু মারা যায়। এছাড়া ১৫ হাজার হরিণ ও ৯টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যু হয়। ৯৪১ কোটি টাকা সমমূল্যের ফসল নষ্ট হয়।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলে বয়ে যাওয়া ম্যারিএন ঝড়কে সর্বাধিক প্রলয়ঙ্ককরী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।বাংলাদেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়। ঝড়টি ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত হয়।এ ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।সর্বস্ব হারায় প্রায় ১ কোটি মানুষ ।সর্বাধিক নিহত হয় সন্দ্বীপ, মহেশখালী, হাতিয়া দ্বীপে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল বৃদ্ধ ও শিশু।ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত করে। এই ঘূর্ণিঝড়ে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত করে।

২০০৭ সালের ১০ নভেম্বরে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি সমুদ্রে সিডর নামে ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হয়। বঙ্গোপসাগরের এটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে। ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার পর বাংলাদেশের পাথরঘাটায় বালেশ্বর নদীর কাছে উপকূল অতিক্রম করে এটি।ঝড়টি ২২৩ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া এই ঝড়ে মারা গেছেন ১০ হাজার মানুষ।এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ঝড়ো হাওয়াসহ ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। সিডরে সুন্দরবনের বেশকিছু হরিণসহ আরও অনেক বন্য প্রাণির মারা যায়।নষ্ট হয় প্রায় ৯ লাখ ৬৮ হাজার ঘর-বাড়ি এবং ধ্বংস হয় ২১ হাজার হেক্টর জমির ফসল । এছাড়াও প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার গৃহপালিত পশু এবং হাঁস-মুরগি মারা যায়।

২০০৯ সালে উত্তর ভারত মহাসাগরে জন্ম নেয়া ঘূর্ণিঝড়টির নাম আইলা। এটি ২৫ মে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ ও ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আঘাত হানে। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার ব্যাস নিয়ে ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি।

২০১৩ সালের মে মাসের শুরুর দিকে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণাংশে উৎপত্তি হয় মহাসেন নামের ঘূর্ণিঝড়টির। ১৪ মে এটি উত্তর-পূর্বাংশের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ঝড়টি শ্রীলংকায় আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বন্যা হয়। এছাড়া ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশেও বেশকিছু প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয় মহাসেনের প্রভাবে।

ঝড়টির নাম প্রথমে মহাসেন দেয়া হলেও পরে নামটি নিয়ে শ্রীলংকার জাতীয়তাবাদী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝে বিতর্ক ওঠে । দেশটির তৃতীয় শতকের সিংহল রাজার নাম থেকে মহাসেন নামকরণ হয় বলে জানা গেছে। পরে শ্রীলংকার সংবাদমাধ্যমে মহাসেন নামহীন ঝড় বলে বর্ণনা করা হয়।

২০১৭ সালের মে মাসের শেষের দিকে যে ঘুর্ণিঝড়টির উৎপত্তি হয় তার নাম দেয়া হয় ‘মোরা’। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার উপকূলকে ১০ নম্বর মহা বিপৎসংকেত এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর সংকেত দেখাতে বলে আবহাওয়া অধিদফতর । ৩০ মে ২০১৭ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফে ১৩৫ কিমি বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’।এ ঘুর্ণিঝড়ে আক্রান্ত জেলাসমূহে হাজার হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। কক্সবাজারে বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টেকনাফের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জমির ফসল এবং লবন চাষিদের জমাকৃত লবণ নষ্ট হয়ে যায়।

ঘূর্ণিঝড়টির কারণে শ্রীলঙ্কায় প্রবল বৃষ্টিপাতে বন্যা এবং ভূমিধস দেখা দেয়। এর ফলে প্রায় ১৮০ জন লোক মারা যায় বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। সূত্র-উইকিপিডিয়া।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//আরসি/এমএমআর


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।