রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:১৩ অপরাহ্ন

নুসরাত হত্যাঃ দায়ী পুলিশেরও শাস্তি হোক

স্বাভাবিক এবং অকাল মৃত্যু কখনোই কারো কাম্য নয়। তারপরেও পৃথিবীতে অনাকাঙ্খিত অনেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।সবগুলো আবার দূর্ঘটনা জনিত মৃত্যু নয়।অনেক ক্ষেত্রে সংগঠিত বা হত্যাকান্ডের মতো অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যেগুলো বেশী যন্ত্রনাদায়ক হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক দু’টি ঘটনাকে উদাহরন হিসেবে দেখা যেতে পারে।যেমন নেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে একটি যাত্রীবাহী বিমানের সাথে একটি হেলিকপ্টারের ধাক্কায় তিনজন নিহত হবার বিষয়টিকে নিছক একটি দূর্ঘটনা বলা যায়। অপরদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে হামলায় অর্ধ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি কোন দূর্ঘটনা নয়।এটি হচ্ছে পূর্ব পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার একটি নৃশংস হত্যাকান্ড।

আমাদের দেশে অনেক সময় কিছু কিছু পরিকল্পিত হত্যাকান্ডকে আত্মহত্যা বা দূর্ঘটনা হিসেবে প্রচারের অপপ্রয়াস চালানো হয়। যখন এই ধরনের কোন অপকর্মে প্রশাসন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কেউ জড়িয়ে পড়েন, তখনই বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক হয়ে যায়। নাগরিকদের মাঝে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত রাফির নৃশংস হত্যাকান্ডের বিষয়টিও তেমনি একটি ঘটনা। আলোচিত ওই মাদ্রাসার চরিত্রহীন অধ্যক্ষ তার অপকর্ম ঢাকতে সাঙ্গ পাঙ্গদের ব্যবহার করেছে। তারা নুসরাত রাফিকে অধ্যক্ষের নির্দেশ মতো গায়ে আগুন ধরিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। অপরাধীরা তাদের দুষ্কর্ম সংগঠিত করেছে। ঘটনাটি চরম ঘৃন্য কাজ হলেও অপরাধীদের জন্য এটি খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার।

অস্বাভাবিক ব্যাপার হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা।তারা ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে তৎপর হয়ে ওঠেছিল। ইতোমধ্যে সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনর ন্যাক্কারজনক ভূমিকার কথা প্রচার হয়ে গেছে। অসহায় ও বিচার প্রার্থী মানুষের আশা ভরশার ঠিকানা হচ্ছে একটি পুলিশ স্টেশন ।সোনাগাজী থানা আবার যেমন তেমন নয়, মডেল থানা। সেই মডেল থানার প্রধান কর্তার কার্যকলাপ মডেল বা অনুকরনিয় বটে।

ওসি মোয়াজ্জেম নির্যাতিতা ও অসহায় নুসরাতকে যথাযথ সাহায্য সহযোগিতায়ই {!} করেছেন বলা যায়। তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য যা যা করার তিনি সবই করেছেন। নুসরাত নাটক করছেন, তার চরিত্র ভালো না ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছেন।সেই জেরার ঘটনা আবার ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের কাদম্বিনী মতোই নুসরাতও যেন “ মরিয়া প্রমান করিল সে যৌন নিপীড়ন নিয়ে কোন নাটক করেনি ”।

মোয়াজ্জেম সাহেবের মতো পুলিশ কর্তাকে বাহবা তো দিতেই হয়!ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে তার {ওসি মোয়াজ্জেম} বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে।তার আগে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

একাত্তুরের ২৫ মার্চ কলো রাত্রির শুরুতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রাজারবাগ পুলিশ বাহিনীর বীরত্ব গাঁথা ইতিহাসে আজো স্মরনীয়। এসপি শামসুল হকদের মতো অসংখ্য পুলিশ সদস্যের অসীম সাহসীকতার কাহিনী ইতিহাসে, আজো মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে।

স্বাধীন বাংলাদেশে মুষ্টিমেয় দূর্নীতিবাজ পুলিশের এসব অপকর্মের দায়ভার কেন পুরো বাহিনীকে বহন করতে হবে? সেই প্রশ্নও এখন সামনে এসে গেছে। বিচারপ্রার্থী নুসরাত রাফির দুঃখজনক ঘটনায় সোনাগাজী থানার অন্যান্য কর্তাদের ভূমিকা কি ছিল, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।সেই সময়ে কর্তব্যরত বা সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তাই তাদের দায়ভার এড়াতে পারে না।অন্যান্য কর্মকর্তারা কি ওসির বিতর্কিত ভূমিকার বিষয় উপর মহলে অবহিত করেছিলেন?

কেবল থানা থেকে প্রত্যাহার করা কোন উপযুক্ত শাস্তি হতে পারেনা। ওসি মোয়াজ্জেমের মতো দুই-চারজন দোষী কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে পুলিশের অপরাধ হয়তো পুরোপুরি বন্ধ হবে না।তবে অনেকাংশে কমে আসবে।এটাই এখন নাগরিকদের প্রত্যাশা।

সম্পাদক, স্বদেশ টুয়েন্টিফোর


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।