রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

সুন্দর আগামির জন্য দখলমুক্ত খেলার মাঠ চাই

সদ্য সমাপ্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন { উত্তর } নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলামের একটি মন্তব্য দেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, প্রশংসিত হয়েছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটা। অনুষ্ঠিত ডিসিসি নির্বাচনের বেসরকারিভাবে ফলাফল মাত্র ঘোষনা করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রিনিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সামনে বিজয়ী মেয়রের প্রথম ঘোষনা, “ আমার প্রথম কাজ হলো খেলার মাঠগুলোকে মুক্ত করে কিশোর- তরুণদের হাতে তুলে দেয়া। আগামি প্রজন্মকে ঘরের চার দেয়াল থেকে বের করে ক্রিড়া আগ্রহী বা মাঠমূখি করা। নেশার কবল থেকে তাদের মুক্ত করতে হবে।”

গভির রাতে টেলিভিশনে বিভিন্ন চ্যানেলের সামনে যারা বসেছিলেন, তারা ঢাকার নতুন নগর পিতার এমন মন্তব্য শুনে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন। অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় নাকাল নগরবাসি, তীব্র যানজটসহ রাজধানী ঢাকা যেখানে হাজারো সমস্যায় জর্জরিত, সেখানে খেলার মাঠ নিয়ে তাঁর একি কথা! ভোটের ফলাফল ঘোষনার পরদিন প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনেও মেয়র আতিকুল ইসলাম একই মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করলেন, —- “ যেকোন ভাবে ঢাকার মাঠগুলোকে দখলমুক্ত ও সংস্কারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে হবে। তাদেরদের জন্য খেলাধূলার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মিডিয়াতে নতুন মেয়র আতিকের এই বক্তব্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন ক্রিড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, সিভিল সোসাইটি এবং সাধারন নাগরিকরা তাঁর এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

বলা বাহুল্য, ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশের শিশু-কিশোর ও তরুণদের ক্রিড়ামূখি করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছিলেন, আগামিতে খেলার মাঠ ছাড়া আর কোন হাউজিং সোসাইটি বা আবাসন প্রকল্পকে অনুমোদন দেয়া হবে না। যাতে আগামি প্রজন্ম খেলাধূলার মাধ্যমে সুন্দর জাতি গড়তে পারে। মাদক, সন্ত্রাসসহ অপরাধ থেকে মুক্ত থাকতে পারে। অথচ দূর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রমশঃ খেলার মাঠ সংকোচিত হয়ে আসছে। বিশাল জনগোষ্ঠির এইদেশে হাতেগোনা যে’কটি খেলার মাঠ আছে, সেগুলোতেও বছরজুড়ে এই মেলা- সেই মেলাসহ বিভিন্ন বানিজ্যিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে বিভাগীয় শহরগুলোতে এই প্রবনতা অত্যান্ত বেশি। যার ফলে তরুণরা বিনোদনের উপায় খুঁজে না পেয়ে মাদক সেবনসহ নানা ভূল পথে পা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানি এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার বলেছেন, বয়সসন্ধি বা উঠতি বয়সের তরুণদের সামনে অপরাধের নানান উপকরণ, চাকচিক্য ইত্যাদি হাতছানি দিচ্ছে। মোবাইল ফোন,
কম্পিউটার গেম এসব কখনো খেলার মাঠের বিকল্প হতে পারে না। ভূলে গেলে চলবেনা, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে যে’কটি বিষয় ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে – ক্রিড়া তার অন্যতম।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কি পরিমান ক্রিড়াপাগল সরকার প্রধান যেটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। রাষ্ট্রিয় পৃষ্টপোষকতা ছাড়াও তিনি একাধিকবার স্বশরীরে মাঠে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেছেন। দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেছেন । দেশের ক্রিড়াঙ্গনের এ পর্যন্ত যতো তারকা সৃষ্টি  হয়েছে, তারা কেউ একদিনে বা হঠাৎ করে কোন তৈরি মাঠ থেকে উদিত হননি। প্রত্যান্ত অঞ্চলের খানা-খন্দকে ভরা মাঠ, ধানক্ষেত, পাড়া মহল্লার সড়কে খেলে তারা আজকের খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেছেন।

বন্দর নগরি চট্টগ্রামের কথাও এসে যায়। সাম্প্রতিককালের আলোচিত তারকা খেলোয়াড় তামিম, নাফিস, আকরাম, নান্নু, নোবেল, রুবেল – এরা সবাই কাজির দেউরির আউটার স্টেডিয়াম থেকে উঠে সৃষ্টি। অথচ আজকে আউটার স্টেডিয়ামের কি হাল! একই প্রশ্ন আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠ ও পাঁচলাইশ জাতি সংঘ পার্কের ক্ষেত্রেও। মহানগরির কল্পলোক আবাসিক এলাকায় খালি প্লটগুলোতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক কিশোর –তরুণ খেলাধূলা করছে। চকবাজার প্যারেড ময়দানে নানান বয়সি কয়েক হাজার খেলোয়াড় অনুশিলন করে আসছে।স্বাস্থ্য সচেতন ও বিনোদন
পিপাসু এই মানুষগুলো কোথায় যাবে ?

চট্টগ্রাম মহানগরির অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে একটি পরিত্যাক্ত পার্ককে স্থানিয় তরুণরা মিলে মাঠের রূপ দেন। এরপর সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে এই মাঠটি ওই এলাকার খেলাধূলা, সংস্কৃতিচর্চাসহ সৃজনশীল সমস্ত কর্মকান্ডের প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে। সকাল থেকে রাত অবধি খেলাধূলার পাশাপাশি নানান বয়সি মানুষের পদচারনায় মূখর ছিল। এই মাঠ থেকে জেলাদলসহ ঢাকার বিখ্যাতদলে সুযোগ পেয়েছিল। জাতিয় দলের খেলোয়ার আফতাব, বিমানের কালো মানিকখ্যাত মান্না, সুদূর ম্যান্চেস্টারে সুযোগ পাওয়া

মাহমুদদের মতো অনেক তারকা এই মাঠে বিচরন করেছে। এখন সেই মাঠে সংস্কারের পর তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই মাঠটি লাল-নীল বর্ণিল বাতি শোভিত জনমানবশূন্য নিষ্প্রাণ একখন্ড জমি হয়ে পড়ে আছে, চেনাই যায় না। মাঠতো নয়, যেন সাজানো পরিপাটি একটি অভিজাত কবরস্থান। মাঠের পূর্ব পাশে অংকুর স্কুলের প্রবেশ মূখে এক চিলতে ছোট্ট জায়গায় { মূলত সড়ক } এলাকার শিশুরা বিকালে খেলার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। আক্ষেপ করে ‘ তাদের মাঠ দখল হয়ে গেছে’। অথচ যার হাত ধরে মাঠের এই করুণ পরিনতি, তিনি চট্টগ্রামের মেয়র এবং ওই এলাকার একটি সমবায় সমিতির সভাপতি অ.জ.ম.নাছিরউদ্দিন । একই সাথে তিনি চট্টগ্রামের একজন সুদক্ষ ক্রিড়া সংগঠক এবং জেলা ক্রিড়া সংস্থারও সম্পাদক। এলাকাবাসির বক্তব্য, কিছু দূষ্টুলোক মেয়রকে বিতর্কিত করার জন্য তাকে ভূলপথে চালিত করছেন।  সম্প্রতি এই খেলার মাঠ নিয়ে একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভীষন সাড়া ফেলেছে। 

গত ৬মার্চ নগরির কায়সার- নিলুফার কলেজে একটি অনুষ্ঠানে মেয়র নাছির দেহ- মনের সুষ্টু বিকাশের জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন । ৯ মার্চ চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন খেলাধূলার উপর বর্তমান সরকারের বাজেট বৃদ্ধিসহ প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপক উৎসাহ- আগ্রহের কথা তুলে ধরেছেন।সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারি কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি সত্যব্রত সাহা সন্তানদের ব্রয়লারের মুরগি না বানিয়ে খেলার মাঠে পাঠাতে জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন। মন্ত্রী, মেয়রসহ সংশ্লিষ্ঠরা উন্নত ও সমৃদ্ধ আগামি গড়তে মাঠগুলোকে দখলমুক্ত করে খেলার পরিবেশ তৈরি করবেন। এছাড়া ভবিষ্যতে আরো নতুন নতুন খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিবেন । তাঁদের মূল্যবান বক্তৃতা বা বানীগুলো যেন নিছক কথার ফুলঝুরিতে পরিণত না হয়। যাতে, নতুন প্রজন্ম মাদকের ভয়াল থাবা এড়িয়ে দেহ মনে সুষ্টু বিনোদনের উপকরণ খুঁজে পায়। এমনটাই প্রত্যাশা সকলের

…………সম্পাদক, স্বদেশ২৪


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।