শিরোনাম
আমাকে এতো হে’নস্তা করা হচ্ছে কেনো সোশ্যাল মিডিয়ায়, কি লাভ এসব করে: সানাই প্রে’মিকা নিয়ে ছেলে পালিয়েছে, মা-বাবা ভ’য়ে পালিয়েছেন ভা’রত ১ম বারের মতো ভূখণ্ডে চী’নের অনুপ্র’বেশ স্বীকার করল বছরে আয় ৫ লক্ষাধিক টাকা প’রিত্যক্ত আমের বিচিতে ব্রেকিং নিউজ… সাকিব শ্রীলঙ্কা সিরিজেই ফিরছেন! এবার ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামির রিমান্ডের আদেশে পরিবর্তন প্রাণঘাতী করোনার ওষুধ তৈরি, অভিনন্দন ডব্লিউএইচওর যে নারী যু’ক্তরা’ষ্ট্রে মুসলিম নি’ষি’দ্ধে’র বি’রু’দ্ধে বিল পা’সের নে’পথ্যে সেনাপ্রধানের চিঠি নিহত সিনহার মাকে, সিনহার মাকে চিঠিতে যা বলেছেন তিনি অপু বিশ্বাস ভারতীয় স্টেজে নাচতে গিয়ে অপমানিত

শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন

ষড়যন্ত্রকারীরা ভাষা আন্দোলন মাঝপথে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল

 ডেস্ক : বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একটি অবিচ্ছেদ্য নাম। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রয়েছে নেতৃত্ব। কিন্তু সেই ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে অজানা।

আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা কর্মসূচি। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশকে জানার কর্র্মসূচি গ্রহণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

তারই আলোকে চট্টগ্রামের সেন্ট স্কলাসটিকা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের একদল শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে জানার জন্য একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শর্মিলা দাশ, অরপারিজতা দাশ, তাসনুভা খানম, তাথৈ চৌধুরী, দুররিয়া হোসেইন, তৃষা পাল, অনন্যা দাশ,শিবাঙ্গী গুপ্তা,প্রান্তিকা চৌধুরী ও অপর্ণা বিশ্বাস। সেন্ট স্কলাসটিকা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রদত্ত সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর সাক্ষাৎকার ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো। আজ প্রকাশিত হচ্ছে তৃতীয় পর্ব :

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় আওয়ামী লীগ গঠিত হলো। বঙ্গবন্ধু তখন কারাগারে। কারাগারে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক করা হয়। ওই সময় আওয়ামী লীগে অনেক বর্ষীয়ান নেতা ছিলেন। তারপরও বঙ্গবন্ধুর সাংগঠনিক দক্ষতা এবং যোগ্যতার কারণে তাঁকে যুগ্ম-সম্পাদক করা হয়। ওই সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর চেয়ে অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক। এটি ছিলো আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটি। এরপর ১৯৫৪ সালে যুক্তপ্রন্টের নির্বাচন হয়। সে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সময় এমপিদের বলা হতো এমএলএ (মেম্বার অব দ্যা লেজিস্টেটিভ অ্যাসেম্বলি), অর্থাৎ আইনসভার সদস্য। তখনো কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান হয়নি, এটিকে বলা হতো পূর্ববঙ্গ। বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভারও সদস্য ছিলেন। কিন্তু পশ্চিমা সামরিক-বেসামরিক আমলারা বাঙালিকে ক্ষমতায় থাকতে দেয়নি। ষড়যন্ত্র করে বাতিল করে দেয় যুক্তফ্রন্ট সরকার।

১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যায়। সোহরাওয়ার্দী সাহেব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি পাকিস্তানের জন্য একটি শাসনতন্ত্র উপহার দেন। পাকিস্তান গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানি জেনারেলরা সামরিক শাসন দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। তখনই বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করতে পারলেন, পূর্ব পাকিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। বাঙালি পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায়ও যেতে পারবে না। বঙ্গবন্ধু ১৯৫৮ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে ভাবতে শুরু করলেন আলাদা একটি দেশ প্রতিষ্ঠার। ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু গোপনে বিভিন্ন বৈঠক করে স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৬১ সালের কোনো এক সময় কমিউনিস্ট পার্টির সাথে তাঁর বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টি তখন রাজি হয়নি।

১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধু গোপনে ছাত্রলীগ নেতাদের স্বাধীনতার জন্য ক্যাডেট তৈরি করার নির্দেশ দেন। ১৯৬২ সালে শুরু হয় ছাত্র আন্দোলন। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানে দাঙ্গা হয়। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ হয়। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দেন। ছয় দফার মধ্যে স্বাধীনতার বীজ ছিলো। কারণ পাকিস্তান যখন ছয় দফা মানলো না, তখন মানুষ বুঝতে পারলো স্বায়ত্তশাসন দিয়ে হবে না, স্বাধীনতা লাগবে। স্বাধীনতাই বাঙালি জাতির একমাত্র মুক্তির পথ। মানুষের এই উপলব্ধি থেকে ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান হয় এবং ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালি জাতি ম্যান্ডেট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের একমাত্র জনপ্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে রায় দেয়। এ বিজয়ের ফলে আওয়ামী লীগের কাছে শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর করার কথা। বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন, এটাই স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা দিলেন না।

পাকিস্তানি সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়ার সরকার বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে না দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধু সাথে সাথেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার আগে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে বজ্রকণ্ঠে ভাষণ দিয়ে বলেছিলেন,‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।অর্থাৎ তিনি সরাসরি দেশের স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন। তার আগে ১৯৬৯ সালে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানের নাম হওয়া উচিত বাংলাদেশ’। বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনায় ছিলো সবসময় ‘বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা’। ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। যে ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি মরণপণ লড়াই করে পাকিস্তানি বাহিনীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।

১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের নানা ঘটনা সংঘটিত হয়। দুই পর্যায়ে ভাষা আন্দোলন হয়। ১৯৪৮ সাল হতে ১৯৫০ সাল একপর্যায় এবং ১৯৫১ সাল হতে ১৯৫২ সাল হলো দ্বিতীয়পর্যায়। ’৫২ এর ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্ত। এদিন ঢাকায় সালাম, রফিক, বরকত ও জাব্বার মারা যান। পুরো আন্দোলনটি প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পরবর্তীকালে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর ব্যানারে পরিচালিত হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবক্রমে এসব গঠিত হয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ধর্মঘটে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন। ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু ছিলেন কারাগারে। কারাগারে তিনি তাঁর বিশ্বস্ত সহকর্মীদের ডেকে নিয়ে গোপনে আন্দোলনের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।ভাষা আন্দোলনে একবার আপোস করার চেষ্টা করা হয়। ভাষা আান্দোলনের একজন নেতা অলি আহাদ তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ‘সেদিন যদি মুজিব ভাই না আসতেন, তাহলে ষড়যন্ত্রকারীরা ভাষা আন্দোলন মাঝপথে থামিয়ে দিতো।চলবে—-


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।