বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

পাবদা মাছ চাষে সাফল্য পেয়েছেন মমরেজ আলী

ঝিনাইদহঃ  পুকুরে পাবদা মাছের সফল চাষ করে আশার আলো দেখিয়েছেন মৎস খামারি মমরেজ আলী বিশ্বাস (৪৯)। উপজেলা মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় পুকুরে পাবদা মাছের চাষ করেছেন তিনি। আশানুরূপ উৎপাদনে অন্য যে কোন মাছ চাষের থেকে বেশি মুনাফা পাওয়ায় তিনি বেশ খুশি । আগামীতে আরো অধিক জলাধারে পাবদা মাছের চাষ করার চিন্তা করছেন তিনি।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে মমরেজ আলী বিশ্বাস উপজেলার জামাল ইউনিয়নের তৈলকুপি গ্রামে ৬ একর পুকুরে দেশি পাবদা মাছের চাষ করেছেন। এর আগে ২০১৮ সালে ২৫ শতাংশ জলাধারে পাবদা মাছ চাষ করে ৩০ হাজার টাকা মুনাফা পেয়েছিলেন। তবে সেটি ছিল কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসের দেয়া একটি প্রজেক্ট। মৎস্য অফিসের দেয়া ১০ হাজার পাবদা পোনা ছেড়ে ৭ মাস পরে মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে সকল খরচ বাদে ওই মুনাফা তিনি পেয়েছিলেন।

অন্যান্য মাছ চাষের তুলনায় পাবদা মাছের চাষ লাভজনক হওয়ায় দ্বিতীয়বার তিনি ২০১৯ সালের মে মাসে ৬ একর পুকুরে সাড়ে ৩ লক্ষ পাবদা মাছের পোনা ছাড়েন। তখন মাছের দৈর্ঘ্য ছিলো প্রায় ২ ইঞ্চি। সে সময় প্রতি পিস মাছ কিনতে হয়েছিল ১টাকা করে। পাবদা মাছের সাথে প্রতি শতাংশে ১০ পিস হারে কার্ভ জাতীয় মাছ ছেড়েছিলেন। ৭ মাস পরে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ১২টন পাবদা মাছ বিক্রি করেছেন তিনি। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া কার্ভ মাছ বিক্রি থেকে কমপক্ষে আরও ৮ লক্ষ টাকা আয় হবে বলে তিনি জানান। পুকুর লিজ, খাবার, ঔষধ, বিদ্যুৎ বিল, নিয়মিত ও অনিয়মিত শ্রমিকের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মিলে ৩৮ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। সেই হিসেবে তার নিট মুনাফা কমপক্ষে ১৫ লক্ষ টাকা।

মাছ বাজারজাতকরণ নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশীয় বাজারে এই মাছ বিক্রি করলে কেজি প্রতি ৩’শ থেকে ৩’শ ৫০ টাকা পাওয়া যায়। তবে ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারলে কেজি প্রতি ৩’শ ৭০ থেকে ৩’শ ৮০ টাকা দর পাওয়া যায়।

মমরেজ জানান, এ বছরে তার উৎপাদিত সকল মাছ ভারতীয় এক ক্রেতা ক্রয় করে ভারতে নিয়ে গেছেন।

মাছ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মমরেজ বলেন, যে পুকুরে মাছ চাষ করা হবে প্রথমে সেই পুকুরের পানি সেচে পানি শূন্য করে চুন দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। পরে নার্সারী মাছ (মাছের পোনা) ছাড়তে হবে। এর পর বয়সের সাথে সাথে বিভিন্ন সাইজে খাবার খাওয়াতে হয়। মাছের ওজনের ২০ থেকে ২৫ ভাগ পরিমাণ খাবার খাওয়াতে হয়। তিনি বলেন, অনেকে দুইবার খাবার খাওয়ালেও তিনি খাবার দিতেন একবার। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে খাবার দিতেন। এদিকে বেশি ঘনত্বে মাছ চাষ করায় তাকে ৩ একর পুকুরে ৫টি এয়ারেটর ব্যবহার করতে হয়েছে। যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৩৪ হাজার টাকা। এ মাছে খুব একটা রোগ বালাই দেখা যায় না। তারপরও মাসে দুইবার গ্যাসোনিল ও ৪০দিন পর পর জীবাণুনাশক ঔষধ ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

নতুনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পাবদা মাছের চাষ যথেষ্ট লাভজনক। যে কেউ এ মাছের চাষ করলে লাভবান হবেন। বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে পুকুরে এয়ারেটর ব্যবহার করা ভালো। এতে একই জলাধারে অধিক মাছ চাষ করা যায়। এয়ারেটর ব্যবহার করলে প্রতি শতাংশ জমিতে ৫’শ পিস পাবাদা ও ১০ পিস কার্ভ জাতীয় মাছ ছাড়া যায়। এয়ারেটর না ব্যবহার করলে ৪’শ পিস পাবদা ও ৭ পিস কার্ভ জাতীয় মাছ ছাড়া যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎ্যে কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা বলেন, বৃহত্তর যশোর জেলায় মৎ্স্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মৎস্য খামারী মমরেজ বিশ্বাসকে ১০ হাজার পাবদা মাছ ও ৫ ব্যাগ খাবার দেয়া হয়। মাত্র ২৫ শতাংশ জলাধারে পাবদা চাষ করে তিনি বেশ লাভবান হন এবং সেখান থেকে উৎসাহিত হয়ে ২০১৯ সালে ১৮ বিঘা পুকুরে পাবদা মাছের চাষ করে আরো অধিক লাভবান হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, দেশীয় প্রজাতির হারিয়ে যাওয়া মাছ ফিরিয়ে আনতে মৎস্য অধিদপ্তর নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে কালীগঞ্জ মৎস্য অফিস দেশীয় পাবদা মাছ চাষের সম্প্রসারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর // এবিএম


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।