বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

নিজের মাকে যে কারণে বিয়ে করলেন মেয়ে

প্রেমের গল্পের অনেক মোড়, অনেক উত্থান পতন। যার কেন্দ্রে রয়েছেন সমকামী যুগল ফিলিস আরভিং ও লিলিয়ান ফেডারম্যান। পরিবার টিকিয়ে রাখতে ফিলিস দ’ত্তক নিয়েছিলেন লিলিয়ানকে। ১৯৭১ সালের দিকে যখন নারী অধিকার আ’ন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল, তখন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করতেন লিলিয়ান ফেডারম্যান। একটি নতুন বিভাগ তৈরি করার ব্যাপারে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিষয়ক পরিচালক ফিলিস আরভিং-এর সাথে। তাদের প্রেমের গল্পের সেখান থেকেই শুরু।

আর সেই গল্পের মেয়াদ কয়েক দশকের মতো। যে গল্পে রয়েছে বি’ভ্রান্তিকর কিছু পরিস্থিতি, যার ফলশ্রুতিতে নিজের সঙ্গিনীকে দ’ত্তক নেয়া আবার তাকে বিয়ে করার মতো অদ্ভুত সব ঘটনা রয়েছে। ভালবাসা ও গোপনীয়তাঃ তাদের যখন পরিচয় হয়, সেসময় সমকামীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র খুব ক’ঠিন একটি জায়গা। আউটলুক অনুষ্ঠানকে লিলিয়ান বলছিলেন, “সেসময় দেশের যেকোনো প্রান্তে আমাদের অ’পরাধী মনে করা হতো। বেশিরভাগ সমকামীরা খুব গো’পনীয়তা বজায় রাখতো।” সেসময় সরাসরি কেউ বলতো না যে তারা সমকামী।

সেসময় আমরা জানতাম আমাদের মুখ বন্ধ রাখতে হবে। আমরা নীরবে যে যার জীবন কা’টাতাম।” কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীরা ধীরে ধীরে আঁচ করছিলেন যে কিছু একটা চলছে। লিলিয়ান বলছিলেন, “ওরা আমাদেরকে ডাকতো ‘ফিলিয়ান’ ও ‘লিলিস’, কারণ আমরা সবসময় একসাথে থাকতাম।” “আমি যখন লেসবিয়ান সম্পর্কের ইতিহাস নিয়ে একটি বই লিখলাম তখন সবাই বুঝে নিয়েছিল যে আমরা দুজনে আসলে যুগল ছিলাম।”

এক পর্যায়ে এই যুগল পরিবারের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সংসার বাধার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সেই যুগে বিষয়টি আইনগত দিক থেকে অ’সম্ভব ব্যাপার ছিল। দুজনে সেময় নিজেদের জন্য একটি অদ্ভুত সমাধান খুঁজে বের করলেন। একত্রে বসবাসের জন্য চল্লিশের কোঠায় থাকা ফিলিস তার তিরিশের কোঠায় থাকা প্রেমিকা লিলিয়ানকে নিজের মেয়ে হিসেবে কাগজে কলমে দ’ত্তক নেন। কিন্তু যখন ২০০৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়াতে স’মকামীদের বিয়ে বৈধ হল তখন তারা বিয়েও করলেন। যার ফলে মা মেয়ে হয়ে উঠলেন বিবাহিত দ’ম্পতি।

লিলিয়ান হেসে বলছিলেন, “আমার মনে হয় পৃথিবীর অন্য যেকোনো দ’ম্পতির তুলনায় আমাদের আইনি বন্ধন অনেক বেশি।” মাতৃত্ব ও বিয়েঃ ১৯৭৪ সালে এই প্রেমিক যুগল সি’দ্ধান্ত নিলেন যে তারা সন্তান নেবেন। ফিলিসের চেয়ে লিলিয়ান বয়সে এগারো বছর ছোট ছিলেন। তারা দুজনে শরণাপন্ন হলেন গ’র্ভাশয়ে কৃত্রিম উপায়ে বী’র্য প্রতিস্থাপনে সহায়তা করে এমন একটি ক্লিনিকের। সেসময় বিষয়টি খুবই নতুন কিছু ছিল আর বিবাহিত না হলেতো কথাই নেই। তবে লিলিয়ান চিকিৎসককে বিষয়টি বোঝাতে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি বলছিলেন, “ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি যদি বাচ্চাই নিতে চাই তাহলে বিয়ে করিনি কেন।” “আমার উত্তর ছিল, আমার বয়স ৩৪।

আমার ডক্টরেট ডিগ্রি রয়েছে। আমি ইতিমধ্যেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট। আমার মতো মেয়েদের ব্যাপারে পুরুষরা কিছুটা দ্বিধায় ভোগে।” এরপর চিকিৎসক কৃত্রিম উপায়ে তার গ’র্ভে বী’র্য স্থাপন করেন এবং তাতে সফল হন। দুই থেকে তিনঃ ১৯৭৫ সালে লিলিয়ান এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। যার নাম রাখা হয় এভ্রম। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই জুটি উপলব্ধি করেন তারা আইনের মারপ্যাঁচে কিভাবে আটকে যাবেন। “সেসময় আমাদের মধ্যে কোন আইনি বন্ধন ছিল না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল যদি এভ্রম কোন কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে, আর আমি না থাকলে তাকে যদি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয় ফিলিসকে, তাহলে কোনভাবেই সে বৈ’ধ অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত হবে না।” আরও উ’দ্বেগ তৈরি হল যদি লিলিয়ান মা’রা যান, ফিলিস আইনত এভ্রমের অভিভাবকত্ব পাবেন না।

সেসময় একই লি’ঙ্গের দুই ব্যক্তি আইনত শিশু দ’ত্তক নিতে পারতেন না অথবা কৃত্রিম উপায়ে সন্তান নেয়াও তাদের জন্য নি’ষিদ্ধ ছিল। তাই এভ্রমকে দ’ত্তক নেয়ারও কোন উপায় ছিল না। যেভাবে মায়ের সাথে হয়ে গেল মেয়ের বিয়েঃ ২০০৮ সালে দুজনের তখন অনেক বয়স, সেসময় ক্যালিফোর্নিয়ায় স’ম-লিঙ্গের বিয়ে বৈ’ধ ঘোষণা করা হল। কোন কিছু চিন্তা না করেই যেদিন এই আইন পাশ হল তার পরের দিনই বিয়ে করে ফেললেন ফিলিস ও লিলিয়ান। কিন্তু কাগজে কলমে তখনো তারা মা-মেয়ে।

বিষয়টি অদ্ভুত থেকে অদ্ভুত হতে থাকলো, যেহেতু দ’ত্তক সম্পর্কিত কাগজগুলো তখনও বহাল ছিল। এরপর তারা বি’স্ময়ের সাথে আবিষ্কার করলেন সেই কারণেই তাদের বিয়ে আসলে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী অকার্যকর।

এমন অবস্থায় তারা কিছুই করতে পারছিলেন না। আসল মা-মেয়ে না হলেও দ’ত্তকের কারণে অ’জাচারের অ’ভিযোগে তারা বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সকল অ’ঙ্গরাজ্যে স’ম-লিঙ্গের বিয়ে বৈ’ধ করা হল। সেসময় একজন আইনজীবী পরামর্শ দিয়েছিলেন দ’ত্তকের কাগজপত্র বাতিল করে আরেক বার বিয়ে করতে। সে’ক্ষেত্রে তাদের বিয়ে এবার বৈ’ধ হবে, তাদের তিনজনের সম্পর্কের একটি আইনি ভি’ত থাকবে। সূত্রঃ বিবিসি বাংলা


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।