বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

দাঁত সুস্থ রাখার ১০টি গোপন রহস্য!

মাত্র ২ পাটি দাঁত পেয়েছি, তাই এদের র’ক্ষা করার জন্য আমাদের উচিৎ সঠিক যত্ন নেওয়া। কিন্তু সঠিক প’রামর্শ এবং অজ্ঞতার কারণে ধীরে ধীরে ন’ষ্ট করে ফেলছি আমাদের অমূল্য সম্পদ এই দাঁতগুলো। কীভাবে ক্ষ’তির হাত থেকে দাঁতকে র’ক্ষা করা যায় তার কৌ’শল জা’নিয়ে দিলেন ডেন্টিস্টরা। কৌ’শল গুলো পানির মত সোজা কিন্তু আপনার দাঁতকে র’ক্ষার জন্য অত্যন্ত কা’র্যকরী।

আম’রা এই টিপসগুলো সংগ্রহ করেছি দন্ত-ক্ষয় প্র’তিরো’ধ করে আপনার মু’ক্তঝরা হাসি ধ’রে রাখার জন্য। দয়া করে দাঁতের ক্ষয়পূরণ নিয়ে লেখা শেষের অসাধারণ বোনস টিপসটি পড়তে ভুলবেন না কিন্তু। ১. তেল লা’গান: অয়েল ড্রয়িং বা অয়েল পুলিং কৌ’শলটি ব্যবহার করে দাঁতের ক্ষ’তিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো বের করে আনা যায়, এসব ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ক্ষয় হওয়ার জন্য দায়ী। এর জন্য প্রয়োজন অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমৃদ্ধ তেল। যেমন তিলের তেল বা নারিকেল তেল। এর যেকোনো একটি তেল মুখে নিয়ে ২০ মিনিট মাউথওয়াশের মত কুলকুচি ক’রতে হবে। এরপর পানি দিয়ে কুলি করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। ২. চিনি এড়িয়ে চলুন: অতিরি’ক্ত চিনি খেলে আপনার দাঁত ক্ষ’তিগ্রস্ত হবে নি’শ্চিত। শুধু মিষ্টি বা চকলেটের চিনি নয়, এড়িয়ে যেতে হবে মিষ্টি স্বাদের যেকোনো খাবার। বিশেষ করে কোমল পানীয় এবং চুইংগাম খাওয়ার অভ্যা’স ত্যা’গ ক’রতে হবে।

এসব খাবারে ব্যবহৃত চিনি দাঁতে আ’টকে থাকে এবং ক্ষ’তিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্য দাঁত ক্ষয়ের পরিবেশ তৈরি করে দেয়। ৩. প্রতিদিন ২ বার দাঁত মাজুন: প্রতিদিন সকালে আপনি হয়তো নিয়ম করে দাঁত ব্রাশ করেন। কিন্তু এটাই যথেষ্ট বলে ধ’রে নিলে ভুল করবেন। রাতের খাবার খেয়ে অবশ্যই আরও একবার দাঁত ব্রাশ করার অভ্যা’স করুন। কারণ রাতের খাওয়া শেষে খাদ্যকণাগুলো দাঁতের ফাকে ফাকে গিয়ে জমা হয় এবং সারা রাত ধ’রে এগুলো মুখের ভেতরের পরিবেশকে অস্বা’স্থ্যকর করে রাখে। ফলে খুব দ্রুত দাঁতে পাথর জমতে শুরু করে এবং দাঁত ক্ষয় হওয়া তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এবং সকালের নাস্তা শেষে দাঁত ব্রাশ করুন। হয়তো ভাবছেন বাসি মুখে নাস্তা ক’রতে হবে? না, সকালের নাস্তার আগে শুধু পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করে নিলেই হবে। কারণ রাতে খাবার পর তো আপনি ব্রাশ ক’রেছেনই।

৪. জিহ্বা ব্রাশ করুন: ক্ষ’তিকর ব্যাকটেরিয়ার আশ্রয়স্থল শুধু দাঁত আর মাড়ি নয়। আপনার জিহ্বাও এদের বড় একটি আস্তানা। প্রতিবার দাঁত ব্রাশ করার সময় তাই জিহ্বাও নিয়ম করে ব্রাশ ক’রতে হবে। টাং ক্লিনার নামে বাজারে একধ’রনের চাঁছনি পাওয়া যায় অল্প টাকায়। দাঁত র’ক্ষার জন্য এইটুুকু বিনিয়োগ তো ক’রতেই পারেন, তাই না। আর ইদানিং ব্রাশের উল্টো পাশেও জিহ্বা পরি’ষ্কার করার জন্য খাঁজ তৈরি করে দিয়ে থাকে। ব্রাশ কেনার সময় এমন খাঁজওয়ালা ব্রাশ কিনতে পারেন। তাহলে এক ঢিলে দুই পাখি মা’রা হয়ে যাবে।

৫. সামান্য পরিবর্তনেও নজর দিন: যখন আপনার দাঁতের স্বা’স্থ্যের বিষয়, তখন ছোট খাটো কোনো পরিবর্তনকেও গ্রাহ্য করুন। মাড়ি কি সামান্য লাল দেখাচ্ছে? লালা কি সামান্য লালচে রংয়ের? নাকি দাঁতে হালকা ব্য’থা অ’নুভব হচ্ছে? ডেন্টিস্টের কাছে ছুটুন এখনি। অবহেলা করলে এই সামান্য পরিবর্তনগুলোই বিশাল রূপ ধারণ করবে। এসব উ’পসর্গই জা’নান দেয় বড়সড় কিছু হতে যাচ্ছে। ৬. গ্রিন টি বা রং চা খান: গ্রিন টি এবং রং চা আপনার দাঁত সু’স্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। চায়ের ক্যামেলিয়া সিনেনসিস দাঁতের ক্ষয় রো’ধে কা’র্যকর ভূমিকা পা’লন করে বলে প্রমাণিত হয়েছে। মিষ্টি খাবার খাওয়ার পর গ্রিন টি বা রং চা যাই পান, খেয়ে নিন। মুখের ভেতরে আ’টকে যাওয়া চিনির ক্ষুদ্র কণা ধুয়ে নিয়ে যাবে। ৭. অতিরি’ক্ত ব্রাশ করবেন না: অতিরি’ক্ত কোনো কিছুই ভালো না। এমনকি অতিরি’ক্ত দাঁত ব্রাশও। দিনে দুই বারের বেশি ব্রাশ করলে দাঁতের উপরে যে শক্ত আবরণ থাকে সেই এনামেল ক্ষয় হতে শুরু করে। জো’রে ব্রাশ করলেও একই স’মস্যা হতে পারে।

একটা ডিমের উপর ব্রাশ দিয়ে জো’রে ঘষে দেখবেন, খোসা ভেঙ্গে যাবে। ডিমেরই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে দাঁতের অবস্থা চিন্তা করুন। দিনের পর দিন জো’রে ব্রাশ করলে এর ক্ষয় হবে না তো করা ক্ষয় হবে? ৮. দাঁতের জন্য উপকারী খাবার খান: কিছু খাবার আছে যা দাঁতের ক্ষয় রো’ধ করে। দুগ্ধজাত খাবার বিশেষ করে পনির দাঁতের পাথর দূ’র ক’রতে সক্ষম এবং এনামেলকেও মজবুত করে তুলতে পারে। আবার ফলের মধ্যে আপেলের কথা উল্লেখ করা যায়। যদিও আপেল সামান্য অ্যাসিডিক এবং মিষ্টি, তবুও এটি লালা উৎপাদনে সাহায্য করার মাধ্যমে ক্ষ’তিকর ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ হ্রাস করে।

৯. ফ্লস ব্যবহার ক’রতে ভুলবেন না: শুধু দাঁত ব্রাশ করাই যথেষ্ট না। দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণা এবং ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে র’ক্ষা পাওয়ার একমাত্র সমাধান হলো ফ্লসিং। ফ্লসিং করা কোনো জটিল বিষয় না। এই সামান্য কাজটুকু ক’রতে পারলে আপনার দাঁত র’ক্ষা পাবে খুব বড় কোনো ক্ষ’তির হাত থেকে। নিয়মিত ফ্লসিংয়ের অভ্যা’স দাঁতের পাথর হতে দেয় না, মাড়ির রো’গ প্র’তিরো’ধ করে, মুখের দুর্গন্ধ প্র’তিরো’ধ করে।

শুধু ব্রাশ করার চেয়ে দাঁত পরি’ষ্কারের জন্য ফ্লসিং আরো কা’র্যকর উপায়। ১০. বছরে ২ বার দাঁতের ডাক্তার দেখান: ডেন্টিস্টরা আপনার মুখ পরীক্ষা করে আগাম সত’র্কতামূলক ব্যব’স্থা গ্রহণ ক’রতে পারবেন। ফলে গু’রুতর কোনো স’মস্যা হওয়ার আগেই তা প্র’তিরো’ধের ব্যব’স্থা নিতে আপনার কোনো অসুবিধা হবে না। তবে এজন্য চাই ডেন্টিস্টের প’রামর্শ। বছরে অ’ন্তত ২ বার ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার সময়সূচী ঠিক করা থাকলে আপনি দাঁতের ব্যাপারে আরো যত্নশীল হবে।


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।