শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

তারা জোর পূর্বক আমাকে বিয়ে দিয়েছে, আপত্তিকর অবস্থায় কেউ পায়নি: ভাইস-চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন

মুখ খুললেন মেহেরপুর জেলার গাংনি উপজেলার আলোচিত ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন। নিজের পরকীয়ার কথা অস্বীকার করে বললেন, আমি জনপ্রতিনিধি। আমার বাসাতে লোকজন সব সময়েই আসে, আসতেই পারে। তার মানে কি এই যে, আমার সঙ্গে বাসায় আগতদের সঙ্গে প্রেম আছে? বিয়ে হয়ে গেছে, এখন সংসার করবেন কি করবেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মানসিকভাবে এখন বিপর্যস্ত। সেইসব নিয়ে এখন ভাবছিনা, প্লিজ। দিনাজপুরের মেয়ে ফারহানার স্বামী গত তিন মাস আগে মারা যান। সেই থেকে তিনি তার ১৪ বছর বয়সি মেয়েকে নিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকতেন। ব্যবহার, নিরহংকার আচরন,

সদালাপি, সুদর্শনা ফারহানা গাংনিবাসীর মন জয় করে নিয়েছিলেন সহজেই। জেলা পরিষদের সদস্য পদে অল্প ভোটে হেরে গেলেও গেলো উপজেলা পরিষদের বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন তিনি।নিজেকে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আখতারের সমর্থক দাবি করে ফারহানা বলেন, তিনি উপজেলা যুব মহিলা লীগের প্রস্তাবিত সাধারন সম্পাদক। কমিটি আজও পাশ হয়নি। একই কথা বলেছেন, মেহেরপুর জেলা যুব মহিলা লীগের একজন প্রভাবশালী সহসভাপতি। তিনি জানান, গাংনীতে আমাদের কোনো কমিটি নেই, অন্যদিকে ফারহানা জানান, গেলো সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে মেহেরপুর থেকে প্রার্থী ছিলেন, নেত্রীর সঙ্গে

দেখা করে দোয়াও নিয়েছিলেন, বয়স অল্প বিধায় নেত্রী তাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন, এমন দাবি ফারহানার। তিনি বলেন, আমাকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। রাজনীতি ও পারিবারিকভাবে আমার অনেক শত্রু আছে। তারা সবাই মিলে আমাকে ফাসিয়েছে। তারা মঙ্গলবার জোর পূর্বক আমাকে বিয়ে দিয়েছে। আমি একজন নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান, বিপুল ভোটে আমি জিতেছি। আমার মতো পজিশনের মহিলাদের যদি এমন অপবাদ দেয়া হয় তাহলে অন্য সাধারণ নারীদের ক্ষেত্রে কি হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়। গাংনি উপজেলা যুব মহিলা লীগের প্রস্তাবিত সাধারণ সম্পাদক ফারহানা বলেন, সব শত্রুরা মিলে আমার বিরুদ্ধে যখন এক হয়েছে তখন প্রকৃত অর্থেই আমি ছিলাম অসহায়। পুরুষ শাসিত এই সমাজে কেউই আমার কথা শুনেনি, শুনতে চায়নি। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাকে নয়, টোটাল নারী জাতিকে অপমান করা হয়েছে। কলংকিত করা

হয়েছে। আমার জায়গায় কোনও পুরুষ মানুষ থাকলে তারা কেউই এমন অপবাদ দিতে সাহস পেতো না। প্রথম সময়ের সঙ্গে বুধবার রাতে টেলিফোনে এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন আলোচিত ভাইস চেয়ারম্যান। কথার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব সময়েই তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘটনা সঠিকভাবে আসেনি বলে জানান তিনি।আলাপকালে তিনি বলেন, অচিরেই সংবাদ

সম্মেলন করে বিস্তারিত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরবেন। তিনি জানান, ঘটনার পরে কোনও সাংবাদিকই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, কিংবা তার বক্তব্য নেয়নি। প্রতিপক্ষের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সবাই আমার বিপক্ষে, আমাকে নিয়েই লিখলেন অথচ কেউই আমায় জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করলেন না।আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে অথচ কেউই আমার বক্তব্য নিলো না? এটা কেমন কথা? প্রতিপক্ষ কারা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল করি, শত্রুমিত্র আছেই, দুই দুইটা নির্বাচন করেছি, সেখানেও কম বেশি প্রতিপক্ষ আছে। আমি আমার পরিবারের একটি হত্যা মামলা দেখভাল করছি। সব শত্রুই এক মোহনায় মিলিত হয়েছে। ঘটনার বিবরণ

দিয়ে তিনি দাবি করেন, উনি এসেছিলেন, এটা সত্য, আমরা ডাইনিং টেবিলে বসেই চা নাস্তা খাচ্ছিলাম। ঘরে আমার মেয়ে ছিলো যার বয়স ১৪ বছর। ঘরের দরজা, জানালা সব খোলাই চ্ছিলো, ইভেন বাইরের গেটও খোলা ছিলো। এর মধ্যেই একদল পিচ্চি পিচ্চি পোলাপান হৈ হৈ রৈ রৈ করে বাসাতে ঢুকে আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পারিবারিক জীবন নষ্ট করে ফেলে সিন ক্রিয়েটের মাধ্যমে। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আমাদের আপত্তিকর অবস্থায় কেউই ধরেনি, অথচ মুহূর্তের মধ্যে প্রচার হয়ে গেলো, আমাদের আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে। গোটা ঘটনাটা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সংবাদকর্মীরাও চেক, ক্রসচেক না করে

লিখে ফেললেন, আমাদের আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে। মঙ্গলবারের ঘটনার সময়ে টোটাল পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে এতো জঘন্য হয়ে যায় যে, আমি মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ি। আমাকে নিয়ে একদল পুরুষের নির্মম আচরণে আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলি। এক কথায় আমি ভীষণ ভাবে নার্ভাস হয়ে পড়ি। আবেগজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আমার যারা রাজনৈতিক সহকর্মী তারাই তখন আমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে। অনেকের নিরব

শত্রু আমি, যা আগে টের পাইনি। টোটালি ওই সময়ে আমি নার্ভাস ছিলাম। গাংনি, মেহেরপুর, তথা দেশবাসী ও দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের ভালবাসাতেই আমি আজকের ফারহানা ইয়াসমিন। তিল তিল করে আমি আজকের এই অবস্থানে এসেছি। সবাইকে শ্রদ্ধা জানিয়েই বলছি, আমাকে কেউ ভুল বুঝবেন না। আমি পরিস্থিতির শিকার, অপরাজনীতির শিকার। নোংরামির শিকার। আপনারা আমাকে দীর্ঘদিন ধরেই দেখে এসেছেন, কেউ কি আমার মধ্যে অতীতে কিছু পেয়েছেন? ফারহানা জানান, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার, রাজনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা নাগাদ ফারহানা ইয়াসমিনের গাংনী পৌর সভার চৌগাছা এলাকার ভাড়া বাসাতে মেহেরপুর সদর উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের আনসারুল হকের ছেলে গোলাম সরোয়ার ওরফে সবুজ গেলে এলাকাবাসী তাদের ধরে ফেলে। এরপর খবর পেয়ে

উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক, গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেকের উপস্থিতিতে ২০ লাখ টাকা দেন মোহরে এ বিয়ে পড়ানো হয়। বিয়েতে উকালতির দায়িত্ব পালন করেন গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম। এসময় গাংনী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সানোয়ার হোসেন বাবলু, সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম বাবু, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুর রহমান, বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর সানোয়ার হোসেন ও ছেলের পিতা আনসারুল হক উপস্থিত ছিলেন।


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।