মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

ছেলের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মা

মু’ক্তিযোদ্ধা খান শাহাদাত হোসেন ও নুরুন্নাহার রুনু দম্পতি সন্তানের চোখে-মুখে নিজের ভবিষ্যত দেখতেন। শাহাদাত হোসেন মারা যাওয়ার

পর সন্তানকে একা লা’লনপালন করে নু’রুন্নাহার। আর সেই সন্তানের ভ’য়ে এখন পা’লিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত ১টায় রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকার গেজেটেড ডর্মেটরির

দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে মাকে মা’রপিট করে ঘর থেকে তা’ড়িয়ে দিয়েছেন ব’খে যাওয়া ছেলে খান মিল্লাত। নুরুন্নাহার রুনু বলেন, বি’পথগামী এই সন্তান কয়েক বছর ধরেই তাকে মা’নসিকভাবে নি’র্যাতন করে আসছেন।

প্রায় রাতে বন্ধুদের নিয়ে বাসায় মা’দকের আসর বসান। মা’দকের টাকা যোগাতে বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করে উজাড় করে দিয়েছেন। ফ্রিজ-ফ্যান বিক্রি করে দিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের মে’য়েকে নিয়ে এসে নুরুন্নাহার রুনুকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখেন।

এই নিয়ে প্র’তিবাদ করায় তাকে শা’রীরিক নি’র্যাতন শুরু করেন। এসব ব্যাপারে পুলিশের কাছে অ’ভিযোগ করায় বে’পরোয়া ছেলে আরও ক্ষে’পে যান। এক সপ্তাহ যাবত প্রায় প্রত্যেক রাতেই নিজের মাকে মা’রপিট করছেন তিনি। ৩ মে রাতে লা’ঠি দিয়ে পি’টান গ’র্ভধারিনী মাকে।

বুধবারের ঘটনা সম্পর্কে নুরুন্নাহার রুনু জানান, তিনি শুয়ে পড়েছিলেন। রাত ১১ টায় একজন বন্ধুসহ বাসায় ফেরেন তার ছেলে খান মিল্লাত। ফিরেই মা’কে বলেন, পি’স্তল নিয়ে একজনকে তুলে আনতে গিয়েছিলেন। সেই লোকের সঙ্গে ধ’স্তাধস্তি হয়, এক পর্যায়ে গু’লি করতে গেলে পি’স্তল থেকে গু’লি বের হয়নি।

পরে সেই লোক তার পি’স্তল কেড়ে নিয়েছে। এখন পি’স্তলের মালিককে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অ’স্বীকৃতি জানালে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় মায়ের মুখে চ’র-থা’প্পড় মা’রেন খান মিল্লাত। এরপর মাথা ও শরীরেও মা’রধর করেন। বিছানা থেকে ওঠার চে’ষ্টা করলে বিছানায় ঠেস দিয়ে ধরে রাখেন। এভাবে প্রায়

দেড় ঘণ্টা তাকে আটকে রেখে নি’র্যাতন করা হয় রুনুকে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছুরি আনতে বলেন তার বন্ধুকে। এ সময় পাশের রুমে গেলে রুনু দৌড়ে নিচে নেমে আসেন। ছেলেও পিছু নিলে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা অসহায় মাকে র’ক্ষা করেন। রাতেই ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশ ডেকেছিলেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ এলে পা’লিয়ে যায় খান মিল্লাত।

এ ব্যা’পারে বৃহস্পতিবার (৭ মে) কলাবাগান থানায় নুরুন্নাহার রুনু নিজের ছেলের বি’রুদ্ধে মা’মলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। নুরুন্নাহার রুনু জানান, মা’দকাসক্ত এই সন্তানের জন্য আত্মীয় স্বজন সবার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। নিজের বাসা নেই, কারো বাসায় ঠাঁ’ই হয় না। দিনের আলো দেখতে পাবেন এমন আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। ভ’য়াল ওই রাতের

কথা মনে উ’ঠলেই ভয়ে আঁতকে ওঠেন তিনি। নিজের ছেলে এভাবে নি’র্যাতন করতে পারে কল্পনাও করতে পারেন না তিনি। জীবন বাঁ’চাতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। মে’য়ে জামাই ব্যাংকার আব্দুর রহিম মিয়াও অভিন্ন অ’ভিযোগ করেন।


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।