মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

ই-পাসপোর্ট নিয়ে ফের ধোঁয়াশা

ঢাকা ব্যুরো : মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত সর্বাধুনিক ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে কবে নাগাদ ই-পাসপোর্ট চালু হবে সেটি নিয়ে ফের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় বেঁধে দিলেও পাসপোর্ট অধিদফতর বলছে, এটি কবে নাগাদ চালু করা যাবে, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নন তারা।

এদিকে গত ৩১ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট চালু হবে। আর রোববার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জার্মানির একটি কোম্পানির সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ই-পাসপোর্টের কাজ শেষ করবে। এ বছরের শেষ নাগাদ অর্থাৎ ডিসেম্বরেই আমরা ই-পাসপোর্ট দিতে পারব।

তারও আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, আগামী ডিসেম্বরেই ই-পাসপোর্ট সাধারণের হাতে পাওয়া যাবে। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে তা চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের নাগরিকদের হাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট তুলে দিতে ২০১৬ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের পাশাপাশি ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। ২১ জুন একনেক চার হাজার ৬৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়।

সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে জার্মানির প্রতিষ্ঠান ভেরিডোসের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সংকট, ই-গেট স্থাপনের কাজে মন্থরগতি, নীতিমালা এবং ফি নির্ধারণ চূড়ান্ত না হওয়ায় ঝুলে যায় এ বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট প্রকল্পের কাজ।

পাসপোর্ট অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, মূলত ই-পাসপোর্টের কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। বর্তমানে ফাইনাল স্টেজের কাজ চলছে। এনআইডিসহ প্রয়োজনীয় সার্ভারের সঙ্গে কানেকটিভিটির কাজ চলমান। এছাড়াও ইন্টারনাল সার্ভারের কাজও শেষ হয়নি। তাই বার বার তারিখ নির্ধারণ করেও কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। কারণ কোনো পাসপোর্টধারীকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটিই সবার আগে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি না করে প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে সময় নিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ই-পাসপোর্ট যেহেতু এমআরপি থেকে কনভার্ট হবে, সেক্ষেত্রে বর্তমানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ডেটাবেইসে পাওয়া তথ্যগুলো ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করতে হবে। সে কাজটি এখনও চলছে। সুতরাং ডিসেম্বরেই এটি চালু করা যাবে এমনটি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে এ সময়ের মধ্যে হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম।

তিনি জানান, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট যাদের রয়েছে, তাদের ফাইল কনভার্ট হবে, কিন্তু যারা নতুনভাবে আবেদন করবে, তাদের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনসহ কিছু বিষয় থাকবে। ফলে সেটিও কিছুটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হবে। আর ঢাকার বাইরে থেকে যারা আবেদন করবেন তাদের কীভাবে ই-পাসপোর্ট দ্রুত দেওয়া হবে, সেটি নিশ্চিত করতে মূল সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বলেন, ই-পাসপোর্ট কবে নাগাদ চালু করা যাবে, সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ আমাদের ফাইনাল স্টেজের কাজ চলছে, এ বিষয়টি যেহতু প্রযুক্তিগত, তাই সেখানে জটিলতাও কিছুটা রয়েছে। এখন এনআইডিসহ অন্যান্য সার্ভারের সঙ্গে কানেক্টেড করার কাজ চলছে। আর মাইক্রোপ্রসেসর চিপে তথ্য সংরক্ষণ, বায়োমেট্রিক, চোখের আইরিশসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করার জন্যও সময় লাগবে।

ই-পাসপোর্ট একবারে ১০ বছরের জন্য দেওয়া হবে। প্রথমপর্যায়ে প্রধান কার্যালয়সহ ঢাকার তিনটি আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে। এরপর সারাদেশে ও পরে বিদেশ থেকেও ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিআইপি) তৈরি থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক সব কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করে পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদফতর। বর্তমান এমআরপি ব্যবস্থা থেকে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থায় উত্তরণ ঘটলে বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঝামেলাবিহীনভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন।

স্বদেশ টুয়েন্টিফোর//জেসি/এমএমআর


পোস্ট টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

স্পন্সরড নিউজ

সম্পাদক:
আসিফ সিরাজ

প্রকাশক:
এইচ এম শাহীন
চট্টগ্রাম অফিসঃ
এম বি কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৯০ হাই লেভেল রোড, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

যোগাযোগঃ
বার্তা কক্ষঃ ০১৮১৫৫২৩০২৫
মেইলঃ news.shodesh24@gmail.com
বিজ্ঞাপনঃ ০১৭২৪৯৮৮৩৯৯
মেইলঃ ads.shodesh24@gmail.com
কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বদেশ২৪.কম
সেল্ফটেক গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।